বিশ্বব্যাংক ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে। সংস্থাটির সর্বশেষ গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ, যা জুনে দেওয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ০ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট কম। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রপ্তানি দুর্বলতা এবং বেসরকারি বিনিয়োগে ধীরগতি—এই তিনটি প্রধান কারণকে এ সংশোধনের পেছনে দায়ী করেছে বিশ্বব্যাংক।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কড়াকড়ি আর্থিক নীতির কারণে ভোক্তা ব্যয় ও ব্যবসায়িক আস্থার ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে। ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতি প্রত্যাশার তুলনায় মন্থর হতে পারে। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। শিল্প উৎপাদন ও কৃষিখাতের ভালো পারফরম্যান্স এই প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদে এ পুনরুদ্ধার আশাব্যঞ্জক হলেও টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ ও রপ্তানিতে জোরালো গতি প্রয়োজন। উচ্চ সুদের হার, জ্বালানি সংকট এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা এখনো বেসরকারি খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
এর আগে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকও (এডিবি) বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। তারা নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা ও বৈশ্বিক চাহিদা দুর্বলতার কথা উল্লেখ করেছে।
প্রতিবেদনে মালদ্বীপ, ভুটান এবং নেপালের জন্য ২০২৬ সালের জন্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও হ্রাস করা হয়েছে, একই সাথে ভারতের পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে এবং শ্রীলঙ্কার পূর্বাভাস ঊর্ধ্বমুখী রাখা হয়েছে।
