ঢাকা     ০৩ মার্চ ২০২৬ ||  ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২

Biz Tech 24 :: বিজ টেক ২৪

টিকটক ব্যবহারে ভাইরাল সংস্কৃতির চাপে বদলে যাচ্ছে সামাজিক আচরণ (পর্ব–২)

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:১৫, ২ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ১৪:১৬, ২ মার্চ ২০২৬

টিকটক ব্যবহারে ভাইরাল সংস্কৃতির চাপে বদলে যাচ্ছে সামাজিক আচরণ (পর্ব–২)

বাংলাদেশ একটি সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয়ভাবে সংবেদনশীল সমাজ। পরিবারকেন্দ্রিক মূল্যবোধ, সামাজিক শালীনতা এবং ধর্মীয় অনুশাসন দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু টিকটকের মতো চীনা অ্যাপের কারণে এই মূল্যবোধের সঙ্গে নতুন এক সংঘাত তৈরি করেছে।

টিকটকের বড় বৈশিষ্ট্য হলো ‘ভাইরাল সংস্কৃতি’। এখানে কনটেন্টের মানের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় আকর্ষণ, চমক এবং দ্রুত মনোযোগ কাড়ার ক্ষমতা। ফলে অনেক ব্যবহারকারী দর্শক টানতে অতিরঞ্জিত আচরণ, অশালীন ভাষা বা বিতর্কিত উপস্থাপনাকে বেছে নিচ্ছে। সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক আচরণের ধারণাকেই বদলে দিচ্ছে।

বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বিদেশি ট্রেন্ড অনুকরণের প্রবণতা বেড়েছে। পোশাক, ভাষা ও আচরণে এমন অনেক কিছু দেখা যাচ্ছে যা স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন অভিভাবকরা। ধর্মীয় অনুভূতিকে উপেক্ষা করে তৈরি কিছু ভিডিও অতীতে সামাজিক বিতর্কও সৃষ্টি করেছে।

একাধিক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ধর্মীয় স্থান বা সামাজিকভাবে সংবেদনশীল পরিবেশেও ভিডিও ধারণ করে ভাইরাল হওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এসব ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, জনপ্রিয়তার চাপ তরুণদের কখনো কখনো সামাজিক সীমারেখা ভুলিয়ে দিচ্ছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভাষার পরিবর্তন। টিকটক ট্রেন্ড অনুসরণ করতে গিয়ে অনেক ব্যবহারকারী আঞ্চলিক বা বিদেশি স্ল্যাং ব্যবহার করছে, যা ধীরে ধীরে দৈনন্দিন কথাবার্তায় ঢুকে পড়ছে। এতে ভাষার স্বাভাবিক সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে ভাষাবিদদের আশঙ্কা।

সংস্কৃতিচর্চার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগে সংগীত, নাটক বা নৃত্য শেখার জন্য দীর্ঘ অনুশীলন প্রয়োজন হতো। এখন অনেকেই কয়েক সেকেন্ডের ট্রেন্ড ভিডিও বানিয়েই শিল্পী পরিচয় দাবি করছে। এতে গভীর সাংস্কৃতিক চর্চার আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাংস্কৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কনটেন্ট নির্মাতাদের যৌথ দায়িত্ব নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। নৈতিকতা ও সৃজনশীলতার সমন্বয় ছাড়া ডিজিটাল সংস্কৃতি সমাজে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।