মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভিসা বন্ড বা জামানত দেওয়ার শর্তযুক্ত দেশের তালিকা প্রায় তিন গুণ বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সর্বশেষ বাংলাদেশসহ আরো ২৫টি দেশকে এই তালিকায় যুক্ত করেছে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশটি।
এর আগে, গত সপ্তাহে সাতটি দেশকে ভিসা বন্ডের আওতায় এনেছিলো মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন সংযোজনের ফলে মঙ্গলবার পর্যন্ত তালিকাভুক্ত দেশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮টি। এই দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বন্ড বা জামানতের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার ভিসা বন্ডের আওতায় আসবেন। ভিসা বন্ডের সর্বোচ্চ পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৩১ টাকা হিসাবে)।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত ৩৮টি দেশের যারা বি১/বি২ ভিসার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন, তাকে অবশ্যই ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলার মূল্যের ভিসা বন্ড জমা দিতে হবে। ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও ইন্টারভিউয়ের ভিত্তিতে কনস্যুলার অফিসার বন্ডের অঙ্ক নির্ধারণ করবেন। আবেদনকারীদের মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বন্ড প্রদানে সম্মতি জানাতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসারের নির্দেশনা ছাড়া আগাম কোনো অর্থ জমা না দিতে সতর্ক করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
গত আগস্টে একটি পাইলট কর্মসূচির আওতায় সর্বপ্রথম এই ভিসা বন্ড নীতি চালু করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার হার বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
গত জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কঠোর অভিবাসন নীতি জারি করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে আক্রমণাত্মক নির্বাসন অভিযান, ভিসা ও গ্রিন কার্ড প্রত্যাহার এবং অভিবাসীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট এবং অতীতের মন্তব্য যাচাই।
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো ট্রাম্পের অভিবাসন এবং ভ্রমণ-সম্পর্কিত নীতিগুলোর ব্যাপক সমালোচনা করে বলেছে, এটি যথাযথ প্রক্রিয়ার গ্যারান্টি এবং বাকস্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করে। ট্রাম্প ও তার মিত্ররা বলছেন, নীতিগুলো অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করে।
