চলতি অর্থবছরের জানুয়ারিতে দেশের রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৩.২ শতাংশে, যা সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই ধীরগতি দেশের আমদানি কার্যক্রম, অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মন্থরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি যেখানে ১৮ থেকে ২৫ শতাংশের মধ্যে ছিল, সেখানে জানুয়ারিতে হঠাৎ বড় পতন অর্থনীতির গতি হারানোর লক্ষণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। কেবল জানুয়ারিতেই লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে মোট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি। ২.৮৩ লাখ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২.৬৩ লাখ কোটি টাকা।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারিতে আমদানি শুল্ক আদায় ১.৩১ শতাংশ কমেছে, ভ্যাট প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ২.৫৭ শতাংশ এবং আয়কর আদায় বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধীরগতি, কর প্রশাসনের সীমাবদ্ধতা এবং করজাল সম্প্রসারণে ব্যর্থতা রাজস্ব কমে যাওয়ার প্রধান কারণ।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের মতে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরেও বড় রাজস্ব ঘাটতির মুখে পড়তে পারে সরকার। নতুন সরকারের সামাজিক ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজস্ব চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
