ঢাকা     ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ||  ২৪ পৌষ ১৪৩২

Biz Tech 24 :: বিজ টেক ২৪

এনইআইআর দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি

মোবাইল ফোনের গ্রে মার্কেটে বছরে রাজস্ব ক্ষতি ৬ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশিত: ১৫:৫৫, ৬ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৫:৫৭, ৬ জানুয়ারি ২০২৬

মোবাইল ফোনের গ্রে মার্কেটে বছরে রাজস্ব ক্ষতি ৬ হাজার কোটি টাকা

অবৈধ হ্যান্ডসেট আমদানি ও বিক্রি বন্ধে জাতীয় যন্ত্রপাতি পরিচিতি নিবন্ধন (এনইআইআর) দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়ে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, স্মার্টফোনের গ্রে মার্কেটের কারণে বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। 

সোমবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার ও মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইওবি)-এর নির্বাহী সদস্য জিয়াউদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশে প্রবেশ করা প্রায় ২০ শতাংশ স্মার্টফোন অবৈধ বা গ্রে মার্কেটের মাধ্যমে আসে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। এসব বিক্রি সরকারি কর কাঠামোর বাইরে থাকায় রাষ্ট্র বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে।

তিনি জানান, ৪৩ শতাংশ কর এড়িয়ে গ্রে মার্কেটের ফোন বিক্রি হওয়ায় ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের অফিসিয়াল স্মার্টফোন বিক্রি স্থবির হয়ে পড়েছে। এনইআইআর কার্যকর হলে অবৈধ ডিভাইস বন্ধ হবে, স্থানীয় উৎপাদন বাড়বে এবং স্কেল বৃদ্ধির মাধ্যমে দামও ধীরে ধীরে সহনীয় হবে।

এনইআইআর বাস্তবায়নে দোকান বন্ধ ও ব্যাপক কর্মসংস্থান হারানোর অভিযোগকে ‘অতিশয়োক্তি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, গবেষণা অনুযায়ী দেশে প্রায় ১৩ হাজার স্মার্টফোন রিটেইল পয়েন্ট রয়েছে, যার ৯০ শতাংশই অফিসিয়াল পণ্য বিক্রি করে। মাত্র এক থেকে দেড় হাজার দোকান অনানুষ্ঠানিক বা ব্যবহৃত ফোনের ওপর নির্ভরশীল।

এমআইওবি সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, স্থানীয় শিল্প এখন কেবল সংযোজন নয়, এসএমটি ও পিসিবিএ উৎপাদনসহ উন্নত উৎপাদন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে ১৫–২০ শতাংশ ভ্যালু অ্যাডিশন হচ্ছে। তিনি বলেন, এনইআইআর-ভিত্তিক সুশৃঙ্খল সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও ভোক্তা সুরক্ষা—সবই নিশ্চিত হবে।

একই সঙ্গে শিল্পমালিকরা আসন্ন বাজেটে স্মার্টফোনের ওপর বিদ্যমান ৪৩ শতাংশ কর পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান, যাতে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ও স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের গতি আরও বাড়ে।

এমআইওবি’র তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ১৮টি স্মার্টফোন ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ হয়েছে। এই খাতে সরাসরি ৫০ হাজার দক্ষ শ্রমিকের পাশাপাশি ডিলার, ডিএসআর, সার্ভিস ও খুচরা বিক্রয়সহ আরও প্রায় ৫০ হাজার মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে প্রায় ৩০ শতাংশ নারী শ্রমিক সক্রিয়ভাবে যুক্ত। একই সঙ্গে এই শিল্প থেকে সরকার প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কর, মজুরি ও ইউটিলিটি বিল আয় করছে।

তবে এমআইওবি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে জানায়, এনইআইআর বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি কিছু অবৈধ ব্যবসায়ীর সহিংস ও বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় একটি সীমিত গোষ্ঠী-যারা দেশের প্রায় ১২ হাজার মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র এক হাজার থেকে দেড় হাজার, স্মার্টফোন আমদানি শুল্ক হ্রাসের দাবি মেনে নেওয়ার পরও বেআইনি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছে।

এমআইওবি জানায়, এসব কর্মকান্ডের মধ্যে বহিরাগতদের এনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, বিটিআরসি কার্যালয়ে ভাঙচুর, শিশুদের ব্যবহার করে সহানুভুতি আদায়ের চেষ্টা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈধ মোবাইল ফোনের দোকান জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।