ঢাকা     ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||  ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০

Biz Tech 24 :: বিজ টেক ২৪

তথ্য পাচারের অভিযোগ

দেশে দেশে নিষিদ্ধ হচ্ছে টিকটক

বিজটেক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৪৫, ২১ মার্চ ২০২৩

দেশে দেশে নিষিদ্ধ হচ্ছে টিকটক

২০১৬ সালে চালু হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে টিকটক। বর্তমানে টিকটকের সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০ কোটিরও বেশি, যার মধ্যে ১০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী যুক্তরাষ্ট্রের। বলা হয়ে থাকে, অ্যাপটি ব্যাপকভাবে গ্রাহকের তথ্য সংগ্রহ করে এবং সেগুলো চীন সরকারের কাছে পাচার করে।

নিরাপত্তার জন্য হুমকি বিবেচনায় ২০২০ সালে ভারত সরকার সে দেশে টিকটক এবং উইচ্যাট নিষিদ্ধ করে। ক্ষতিকর কনটেন্ট আছে, এমন অভিযোগে পাকিস্তান এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ বার সাময়িকভাবে টিকটক নিষিদ্ধ করেছে। আর 'যুবকদের ধ্বংস করছে'; এই অভিযোগে আফগানিস্তনের তালেবান সরকার ২০২২ সালে এই অ্যাপটি নিষিদ্ধ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির ইনফরমেশন সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্টন ডাবুরা বলেন, 'সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ব্যবহারকারীরা জানেও না যে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য বিদেশি একটি সরকার ব্যবহার করতে পারে- এ ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। মানুষ জানলে অবাক হবে যে, তাদের ছোটখাটো বিভিন্ন তথ্য মোবাইল ডিভাইস থেকে চুরি করে সেগুলোকে কীভাবে ব্যবহার করা হতে পারে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরুপ।'

টিকটক অবশ্য সব সময়ই গ্রাহকের তথ্য চুরি বা পাচারের সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। টিকটক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ওপর চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাও জি চিউ আগামী সপ্তাহে ক্যাপিটল হিলে অ্যাপটির নিরাপত্তা ত্রুটি ও তথ্য পাচার বিষয়ে জবাবদিহি করবেন, যেখানে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক- উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের কঠিন প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

কানাডায় সব ধরনের সরকারি ডিভাইসে ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ ‘টিকটক’ নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সরকার, যা এরইমধ্যে কার্যকর হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, ‘টিকটক’ অ্যাপ গোপনীয়তা ও তথ্যের সুরক্ষার ক্ষেত্রে ‘অগ্রহণযোগ্য মাত্রায় ঝুঁকি তৈরি করছে’ বলে কানাডার প্রধান তথ্য কর্মকর্তা পর্যবেক্ষণ দেওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

ইউরোপীয় কমিশন টিকটকের ক্ষেত্রে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নিল কানাডা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, ওই অ্যাপের কারণে নিরাপত্তা নিয়ে ‘যথেষ্ট উদ্বেগ’ তৈরি হয়েছিল বলেই এরকম সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

তাইওয়ান সরকারও নিজ নিজ দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের অফিশিয়াল ডিভাইসে টিকটক ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। এই তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে যুক্তরাজ্যের নাম।