Biz Tech 24 :: বিজ টেক ২৪

ইতিহাসের বৃহৎ সাইবার আক্রমণের শিকার যুক্তরাষ্ট্র

বিজটেক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:২৬, ১৯ ডিসেম্বর ২০২০

আপডেট: ১৪:২৯, ১৯ ডিসেম্বর ২০২০

ইতিহাসের বৃহৎ সাইবার আক্রমণের শিকার যুক্তরাষ্ট্র

ইতিহাসে বৃহৎ সাইবার আক্রমণের শিকার হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির জ্বালানি, অর্থ, বাণিজ্যসহ একাধিক সরকারি সংস্থার কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রের মজুদ নিয়ে তথ্য চুরির বড় ধরনের আশঙ্কা রয়েছে। যদিও দাবি করা হচ্ছে, পারমাণবিক অস্ত্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েনি।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফটও জানিয়েছে, তাদের অন্তত ৪০টি গ্রাহক সাইবার আক্রমণের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮০ ভাগই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক; বাকিরা কানাডা, মেক্সিকো, বেলজিয়াম, স্পেন, যুক্তরাজ্য, ইসরায়েল ও আরব আমিরাতভিত্তিক। মাইক্রোসফটের গ্রাহকের মধ্যে রয়েছে সরকারি সংস্থা, থিংক ট্যাংক, বেসরকারি সংস্থা ও আইটি কোম্পানি।

মাইক্রোসফট প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড স্মিথ মনে করেন, পরিসর, জটিলতা আর প্রভাবের বিচারে এ সাইবার আক্রমণ আসলে অনেক বড় ঘটনা। নিজের ব্লগে তিনি লিখেছেন, এমনকি এ ডিজিটাল যুগেও এটি সচরাচর গুপ্তচরবৃত্তির নয়। অধিকন্তু এটি একটি উন্মত্ততা, যা যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বজুড়ে গুরুতর এক প্রযুক্তিগত দৈন্য ফুটিয়ে তুলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সাইবার এজেন্সি, দ্য সাইবারসিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার এজেন্সি (সিআইএসএ) কিংবা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) কেউই প্রকাশ্যে হামলাকারীর নাম বলেনি, যদিও বেসরকারি সিকিউরিটিজ কোম্পানি ও সরকারি কর্মকর্তারা কেউ কেউ এ হামলার পেছনে রাশিয়াকেই দায়ী করছেন। রাশিয়ার পক্ষ থেকে অবশ্য এ হামলার দায় সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সাইবার আক্রমণ নিয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি বলেছেন, সাইবার-নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেবে তার প্রশাসন।

৭৬ বছর বয়সী বাইডেন বলেন, কী ঘটেছে তা এখন পর্যন্ত আমরা জানি না। কিন্তু এটা জানি, বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। প্রতিদ্বন্দ্বীদের সম্ভাব্য তাত্পর্যপূর্ণ সাইবার আক্রমণ নস্যাৎ ও প্রতিহত করতে হলে সর্বাগ্রে এ চক্রকে চিহ্নিত করা প্রয়োজন। আমরা সর্বাগ্রে এ কাজটি করতে চাই। বিপজ্জনক এ আক্রমণ রুখতে আমরা যথেষ্ট পরিমাণে ব্যয় করতে তৈরি। এজন্য আমরা জোট ও সহযোগীদের সঙ্গেও সমন্বয় করব।

সিআইএসএ বৃহস্পতিবার স্পষ্ট এক সতর্কবার্তায় জানায়, এ আক্রমণের ফলে নেটওয়ার্ক সফটওয়্যারে যেসব ম্যালওয়্যার ঢুকে পড়বে, তা অপসারণ খুবই ‘জটিল ও চ্যালেঞ্জিং’ হতে পারে। সংস্থাটি জানায়, স্পর্শকাতর কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফেডারেল এজেন্সি ও প্রাইভেট সেক্টরের বহু কোম্পানির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, যা বিশাল এক হুমকি তৈরি করেছে।

সিআইএসএ বলছে, এ হ্যাকিংয়ের চেষ্টা চলছিল গত মার্চ থেকে এবং যারা এটি ঘটিয়েছে তারা অসীম ধৈর্য, অপারেশনাল নিরাপত্তা ও জটিল ট্রেডক্র্যাফট (ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে বিদেশী গোয়েন্দা হুমকি) প্রদর্শন করেছে। যদিও ঠিক কী ধরনের তথ্য চুরি হয়েছে কিংবা হুমকির মুখে পড়েছে তা স্পষ্ট করে জানায়নি সংস্থাটি।

রয়টার্স নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, হ্যাকাররা অন্ততপক্ষে পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, অর্থ ও বাণিজ্য বিভাগের নানা তথ্য পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছে।

সিআইএসএ বলছে, অপরাধী চক্র টেক্সাস-ভিত্তিক আইটি কোম্পানি সোলারউইন্ডস কর্তৃক নির্মিত ‘নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার’ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ঢুকে পড়েছে।