Biz Tech 24 :: বিজ টেক ২৪

ইভ্যালির ‘ক্যাশব্যাক’ অফারের ফাঁদে হাজারো গ্রাহক

সাইফুল ইসলাম শান্ত

প্রকাশিত: ১৮:০২, ৪ মার্চ ২০২১

আপডেট: ১৮:৫১, ৪ মার্চ ২০২১

ইভ্যালির ‘ক্যাশব্যাক’ অফারের ফাঁদে হাজারো গ্রাহক

অনলাইনে পণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ‘ক্যাশব্যাক’ অফারের ফাঁদে এখন হাজারো গ্রাহক। ১০০ থেকে ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাকের লোভনীয় অফারে হাজার হাজার গ্রাহক আকৃষ্ট হয়ে অগ্রিম টাকা দিয়ে পণ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন কয়েক মাস ধরে।

ইভ্যালি শুরুর দিকে চালু করে ‘ভাউচার’ নামক একটি পদ্ধতি, এই অফারে দেয়া হতো ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক। শুরুর দিকে ১০ টাকায় একটি পেনড্রাইভ এবং ১৬ টাকায় টি-শার্ট বিক্রি করে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে প্রতিষ্ঠানটি।

হাসান ইমাম নামে একজন গ্রাহক জানান, কখনো ইচ্ছা ছিলনা ইভ্যালির বিরুদ্ধে অভিযোগ করবো, কিন্তু আজ নিরুপায় হয়েই অভিযোগ করতে হলো। ইভ্যালি থেকে পণ্য কিনেছি প্রায় ১ বছর হলো, কিন্তু এখনো ডেলিভারি পেলাম না। কিন্ত ইভ্যালির সাইটে ডেলিভারি দেখাচ্ছে। প্রায় ৭/৮ বার ইভ্যালির অফিসে গিয়ে অভিযোগ দিয়েছি কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। আর কল সেন্টারে ও রিপোট ইসুতে কথা বলে লাভ নেই। এখনো পর্যন্ত ভদ্র ভাষায়ই বারবার অভিযোগ দিয়ে আসছি তাই হয়তো ইভ্যালি সমাধান করছে না।

সোনিয়া আক্তার নামে আরেকজন গ্রাহক জানান, অর্ডার দিয়েছি ৯ মাস ৭ দিন হলো। মানুষের হাজার হাজার পণ্য আটকে রেখে প্রতিদিন সাইক্লোন এর নামে মানুষের টাকা লুটের পায়তারা করছে ইভ্যালি। ইভ্যালির ফাদে কেউ পা দিবেন না।

জানা গেছে, কার্যক্রম শুরুর দুই বছর পার না হতেই ক্যাশব্যাক পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠানটি এক হাজার কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করেছে। অথচ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন মাত্র ৫০ হাজার টাকা। ব্যবসা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাছে নানা অভিযোগও জমা হচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইভ্যালির কার্যক্রমের ধরন অনেকটাই এমএলএম কম্পানির মতো। এমএলএম কম্পানিগুলোর প্রতারণার চিত্র দেখার অভিজ্ঞতা থেকে মনে হচ্ছে, ইভ্যালিও তা-ই করছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এখানে মানি লন্ডারিং হচ্ছে।

এরইমধ্যে ইভ্যালির বিরুদ্ধে আট ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে প্রচলিত বিভিন্ন আইন ভঙ্গের প্রমাণ পেয়েছে খোদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি তদন্ত টিম অনুসন্ধান করে নানা ধরনের প্রতারণা ও অনিয়মের সত্যতা পেয়েছে। তদন্তে ইভ্যালির বিরুদ্ধে অর্ডার করা পণ্য নির্ধারিত সময়ে ডেলিভারি না দেয়া, গ্রাহকদের সঙ্গে যথাযথ যোগাযোগ না রাখা, পণ্য ডেলিভারি দিতে ব্যর্থ হলে অগ্রিম নেয়া টাকা ফেরত না দেয়া, ক্যাশব্যাক হিসাবে টাকা না দিয়ে ই-ব্যালেন্স দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওই তদন্তের ওপর ভিত্তি করে গত ১২ জানুয়ারি একটি প্রতিবেদন বাণিজ্যসচিব মো. জাফর উদ্দিনের কাছে পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত সেপ্টেম্বরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে করা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের লিখিত অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ইভ্যালির বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পুলিশ সদর দপ্তরকে দেয়া হয়।

premierbankltd