Biz Tech 24 :: বিজ টেক ২৪

ই-ভ্যালির প্রতারণা নিয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে অভিযোগ

সাইফুল ইসলাম শান্ত

প্রকাশিত: ১৬:২১, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

আপডেট: ১৬:২৪, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ই-ভ্যালির প্রতারণা নিয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে অভিযোগ

অনলাইনে পণ্য বেচাকেনার প্রতিষ্ঠান ই-ভ্যালির প্রতারণা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিদিনই বাড়ছে অভিযোগ। এমনকি ই-ভ্যালির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজেও গ্রাহকরা অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না।

পণ্য বিক্রির কথা বলে মানুষের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু অনেককেই সময়মতো পণ্য দিচ্ছে না। গ্রাহকেরা যে পণ্যের ফরমাশ (অর্ডার) দিচ্ছেন, অনেক সময় তারা পাচ্ছেন অন্য পণ্য। এমনকি মানহীন পণ্যও সরবরাহ করা হচ্ছে।

ই-ভ্যালির অনিয়ম নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে রকি ইসলাম নামে একজন গ্রাহক লিখেছেন, ৯০ দিন হয়ে গেলো PICKED হয়ে আছে, পোডাক্ট কবে পাবো? আপনাদের ৪৫ দিন কয় দিনে হয় একটু বলবেন? প্রিয় রাসেল ভাই (ই-ভ্যালির মালিক মোহাম্মদ রাসেল)।

রাজীব নামে একজন লিখেছেন, আমি ৫৬ দিন রানিং কোন আপডেট নাই। কাষ্টমার কেয়ার-এ ফোন দিলে এক একজন এক এক ধরনের কথা বলে। কারও কথার সাথে কারও কথার কোন মিল পাইনা। বেশকিছু দিন ফোন দিলাম এসএমএস করলাম সব সময় একই কথা সময় দিয়ে সহযোগিতা করুন। খুব তারাতারি আপনাকে ডেলিভারী/আপডেট দেয়া হবে। কথাগুলো শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে গেছে।

সৈয়দ তারেক নামে একজন গ্রাহক লিখেছেন, ধোকাবাজি বন্ধ করুন। অর্ডার দেয়ার দুইদিন পরে পিকড হয়েছে। সবগুলোর অর্ডার ১৪৫ দিনের উপরে চলতেছে। কল সেন্টারে কথা বলে কোনো লাভ হয়নি। ৩ মাস থেকে একই কথা সময় দিয়ে সাহায্য করুন। এখন পুরোটাই ঘৃণা ও বিতৃষ্ণা হচ্ছে।

আরিফুল ইসলাম সাদেক নামে একজন গ্রাহক লিখেছেন, আমার প্রোডাক্ট অর্ডার প্রায় ৩ মাসের বেশি হয়ে যাচ্ছে, কোন ধরনের রেসপন্স নেই। সাইকেল অর্ডার দিয়েছিলাম, আমার সাইকেল চালানো শখ শেষ হয়ে গেছে। প্লিজ আমার প্রোডাক্টটি তাড়াতাড়ি দেয়ার চেষ্টা করবেন।

পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে ই–ভ্যালি গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি তা নিজের কাছে রেখে দিচ্ছে। আর এসবের মাধ্যমে ই–ভ্যালি দণ্ডবিধি, ১৮৬০–এর পাঁচটি ধারা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯–এর দুটি ধারা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮–এর একটি ধারা লঙ্ঘন করে যাচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ এসব কথা জানিয়ে গত মাসে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দণ্ডবিধি ১৮৬০ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের আইন ২০০৯ অনুযায়ী অগ্রিম মূল্য নেওয়ার পর সময়মতো পণ্য সরবরাহ না করা অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণা। এর শাস্তি এক থেকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড।

এছাড়া ক্যাশব্যাক অফারে গ্রাহকদের টাকা ফেরত না দিয়ে নিজের ওয়ালেটে রাখছে ই-ভ্যালি। আবার পণ্য কেনার সময় গ্রাহকদের ১০০ শতাংশ অর্থ ব্যবহার করতে দিচ্ছে না। এ ধরনের অপরাধের দায়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিকের সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। ই-ভ্যালি তার গ্রাহকদের সঙ্গে হটলাইন নম্বর, সাপোর্ট ই-মেইল, ই-ভ্যালি অ্যাপ্লিকেশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যথাযথভাবে যোগাযোগ করে না বলেও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।