Biz Tech 24 :: বিজ টেক ২৪

নকল মোটরসাইকেল বিক্রি করায় ইভ্যালিকে আইনি নোটিশ

বিজটেক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৩:২৪, ২০ এপ্রিল ২০২১

আপডেট: ১৩:৩৩, ২০ এপ্রিল ২০২১

নকল মোটরসাইকেল বিক্রি করায় ইভ্যালিকে আইনি নোটিশ

বিতর্কিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ অগণিত। মূল্য পরিশোধের পর নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও নির্ধারিত পণ্য পান না গ্রাহকরা—এমন অভিযোগ হরহামেশাই। এবার প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ-নকল  ইয়ামাহা মোটরসাইকেল বিক্রি করছে তারা। আর এই অভিযোগে ইভ্যালিকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশে জাপানের ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলের একমাত্র পরিবেশক এসিআই মোটরস। 

এসিআই মোটরসের দাবি, ইভ্যালিতে ইয়ামাহার নাম দিয়ে যেসব মোটরসাইকেল বিক্রি হচ্ছে, তা আসল নয়। এতে ইয়ামাহার সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। গত ১ এপ্রিল আইনি নোটিশটি দেয় এসিআই। 

নোটিশে সাত দিনের মধ্যে ইভ্যালিতে ইয়ামাহার ব্র্যান্ড নাম ব্যবহার করে মোটরসাইকেল বিক্রি বন্ধের জন্য বলা হয়। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়। অবশ্য গতকাল সোমবারও (১৯ এপ্রিল) ইভ্যালির ওয়েবসাইটে গিয়ে ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বিক্রি করতে দেখা যায়। যদিও আজ মঙ্গলবার ওয়েবসাইট থেকে ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের সব মোটরসাইকেল উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে ২০১৬ সালে ইয়ামাহার পরিবেশক হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয় এসিআই মোটরস। তারা গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি কারখানাও করেছে যেখানে ইয়ামাহার মোটরসাইকেল সংযোজন ও উৎপাদন হয়। এই কারখানায় কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে ইয়ামাহা। ১৯৫৫ সালে জাপানে প্রতিষ্ঠিত ইয়ামাহা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের একটি। বাংলাদেশে বছরে ইয়ামাহার ২০ হাজারের মতো মোটরসাইকেল বিক্রি হয়। এই বিক্রি প্রতিবছরই বাড়ছে। 

উকিল নোটিশে এসিআই মোটরস জানিয়েছে, ২০১৬ সালের ৫ জুন থেকে এসিআই মোটরস ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলের একমাত্র পরিবেশক। সেই থেকে একমাত্র এসিআই মোটরস ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল আমদানি, সংযোজন, উৎপাদন, বিপণন, মজুতকরণ এবং বিক্রয়-পরবর্তী সেবা ও ওয়ারেন্টি সার্ভিস দিচ্ছে। ২০২০ সালের মার্চ থেকে এসিআই মোটরসের সঙ্গে ইয়ামাহার কারিগরি সহায়তা চুক্তিও রয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, ইয়ামাহার দেওয়া চিঠি অনুযায়ী এসিআইয়ের বাইরে বাংলাদেশে আর কেউ ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বিক্রি করতে পারবে না। ইভ্যালির সঙ্গে এসিআই মোটরসের কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই। তাই ইভ্যালি ইয়ামাহা ট্রেডমার্ক ব্যবহার করে ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলের অননুমোদিত সরবরাহকারী।

সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইভ্যালি ইয়ামাহা ট্রেডমার্ক ব্যবহার করেই যাচ্ছে। এটা ইয়ামাহার ট্রেডমার্ক ব্যবহার করে লাভের উদ্দেশ্যে ক্রেতাদের প্রতারিত করার শামিল। ই-ভ্যালি নিজেদের লাভের জন্য ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের সুনামকে ব্যবহার করছে, যা দীর্ঘদিন ধরে তৈরি করেছে এসিআই মোটরস। ক্রেতাদের কাছে এটা এসিআই মোটরসের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে। নোটিশে পুরো প্রক্রিয়াটি ২০০৯ সালের ট্রেডমার্ক অ্যাক্টের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়। 

নোটিশে আরও বলা হয়, সাত দিনের মধ্যে ইভ্যালি ইয়ামাহা ব্র্যান্ড নাম ব্যবহার করে মোটরসাইকেল বিক্রি বন্ধ না করলে তারা দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

এ বিষয়ে এসিআই মোটরসের নির্বাহী পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস দেশের প্রথম সারির এক গণমাধ্যমকে বলেন, ই-ভ্যালি আগে এসিআই মোটরসের পরিবেশকদের কাছ থেকে মোটরসাইকেল নিতো। ছয় থেকে সাত মাস আগে সেটা বন্ধ করা হয়েছে। তাই এখন ই-ভ্যালি যেসব ইয়ামাহা মোটরসাইকেল বিক্রি করছে তা অনুমোদিত নয়। 

তিনি আরও বলেন, ‘ই-ভ্যালিকে আমরা আইনি নোটিশ দিয়েছি। এখন পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেব।’