Biz Tech 24 :: বিজ টেক ২৪

ইভ্যালির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ

বিজটেক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:৫১, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

আপডেট: ১৪:৫৩, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

ইভ্যালির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ

অনিয়মের অভিযোগ ওঠা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির দায়িত্ব নেবে না বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত এ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে কমিটির বৈঠক শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) সেলের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ও কমিটির প্রধান হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সভায় ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, ধামাকাসহ বিভিন্ন ই-কমার্সের বিষয় উঠে এসেছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলো যেহেতু ইতোমধ্যে আইন অমান্য করেছে, সুতরাং মিনিস্ট্রি সরাসরি কোনো দায়িত্ব না নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রেফার করে দেবে। তারা যাতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এটা হলো কমিটির সুপারিশ বা সিদ্ধান্ত। এ জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হবে।

মহাপরিচালক আরো বলেন, আমরা দশটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চেয়েছি। একটার পেয়েছি, বাকি নয়টির তদন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক করছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কিংবা মামলা লাগে। এক্ষেত্রে সেই রকম কিছু হবে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মামলা করলে করবেন ভোক্তা কিংবা যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে যে তথ্য পেয়েছি, ওখানে আমাদের একটা গ্যাপ পরিলক্ষিত হয়েছে, তার দায় ও সম্পদের মধ্যে বড় যে পার্থক্য সেটা কোথায় গেছে? এছাড়া গ্রাহকের কাছ থেকে সে টাকা নিয়েছে, বিনিময়ে পণ্য না দিয়ে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এই বিষয়গুলো ওখানে আসে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের আওতায়ও ডিজিটাল প্রতারণা আছে, সেখানেও এটা অপরাধ। ভোক্তা অধিকার আইনেও কিছু অপরাধ আছে। এই জায়গাগুলো চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাচ্ছি। আগেও জানিয়েছি। এই মিটিংয়ের রেফারেন্সে আবার জানানো হবে।

ইভ্যালি নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর এক বছর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রাথমিক একটি তদন্ত করেছে জানিয়ে ই-কমার্সে সেলের প্রধান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে কিছু অপরাধ হয়েছে বলে ধারণা করায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সাতটি সংস্থাকে চিঠি দিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কিছু করেনি তা নয়। মহামারির কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে এসওপিটা ফাইনাল করতে। হ্যাঁ, তখন যদি আরও হার্ড লাইনে যাওয়া যেত তাহলে হয়তো এতটুকু ড্যামেজ হতো না, সেটা ঠিক আছে। কিন্তু আমরা কাজ করে যাচ্ছিলাম তখন থেকেই।

ইভ্যালির গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া টাকা কোথায় গেছে, সে বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য পাইনি। এখন আমরা ধামাকার কাছে সেই তথ্যটা চাচ্ছি। জানতে চাচ্ছি পরিস্থিতিটা কী, তার এক্সিটের কোনো প্ল্যান আছে কিনা। এখন তারা যে প্ল্যানটা দিয়েছে সেটা দিয়ে এগোতে পারবো কিনা, সেটা এখনও বিবেচনাধীন। একেবারে পরিত্যক্ত করা হয়নি, তিনি যোগ করেন।

যে টাকার খোঁজ পাননি, তা পাচার হয়েছে বলে মনে করেন কী- এ বিষয়ে হাফিজুর রহমান বলেন, আমরা দুর্নীতি দমন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করেছি- এই টাকা কোথায় গেছে, সে ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের সন্দেহ আছে। পাচার হতে পারে বা অন্য কোথাও সরানো হতে পারে। এটি যেন তারা তদন্ত করে বের করে। এই তদন্ত এখনও অব্যাহত আছে।