ঢাকা     ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ২৩ মাঘ ১৪৩২

Biz Tech 24 :: বিজ টেক ২৪

রেয়ার আর্থ: চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগ

বিজটেক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:২১, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রেয়ার আর্থ: চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগ

চীননির্ভরতা কমিয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের (রেয়ার আর্থ) নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক যানবাহন, কম্পিউটার চিপ থেকে শুরু করে আধুনিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রে চীনের একচ্ছত্র প্রভাব মোকাবিলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

বুধবার ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আয়োজনে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় ক্রিটিক্যাল মিনারেলস মিনিস্টেরিয়াল। এতে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও কঙ্গোর গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি, সেমিকন্ডাক্টর ও উচ্চপ্রযুক্তি পণ্যে ব্যবহৃত খনিজে প্রবেশাধিকার, বিনিয়োগ ও সরবরাহ নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়।

বর্তমানে বিরল মাটি (রেয়ার আর্থ) সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ খনিজের খনন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে চীন বিশ্বে শীর্ষে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি চীনের নাম উল্লেখ করেনি, তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ‘বিদেশি সরবরাহের আধিপত্য’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কম দামের কারণে অনেক দেশ ও কোম্পানি খনিজ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনে শুল্ক ব্যবহার করে ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ সহকারী ডেভিড কপলি বলেন, খনিজ খাতে প্রকল্প চালু করতে যুক্তরাষ্ট্র শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। ইতোমধ্যে এমপি ম্যাটেরিয়ালস ও লিথিয়াম আমেরিকাসের মতো প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ শুরু হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ইউরোপীয় কমিশন যৌথভাবে বাণিজ্য নীতি সমন্বয় করে গুরুত্বপূর্ণ খনিজে প্রবেশাধিকার রক্ষায় কাজ করছে বলে জানান মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রিয়ার। এর আগে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাজারনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিধি মানার আহ্বান জানিয়েছে।

এই বৈঠকটি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর কৌশলের অংশ, যার মধ্যে সম্প্রতি ঘোষিত ১২ বিলিয়ন ডলারের ‘প্রজেক্ট ভল্ট’ রিজার্ভও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ঘরোয়া ও মিত্র দেশগুলোর মাধ্যমে খনিজ সরবরাহ নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যদিও এ খাতে চীনের প্রভাব এখনো বড় বাস্তবতা।