Biz Tech 24 :: বিজ টেক ২৪

ব্যবসা বাঁচাতে ইভ্যালির সিইও’র আকুতি

বিজটেক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৬:২৫, ২৫ জুলাই ২০২১

আপডেট: ১১:১৩, ২৬ জুলাই ২০২১

ব্যবসা বাঁচাতে ইভ্যালির সিইও’র আকুতি

গ্রাহকের ৩৩৯ কোটি টাকার হিসাব দিতে না পারা বিতর্কিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির সিইও এবার ব্যবসা বাঁচাতে সুযোগ দেয়ার আকুতি জানিয়েছেন।

শনিবার রাতে এক ঘণ্টা ২২ মিনিটের ফেসবুক লাইভে ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেল বলেন, একটি প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে যদি ইভ্যালি বন্ধ করা যায় তাহলে হয়তো কোনো একটা গোষ্ঠী উপকার পাবে, কিন্তু তার চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ ইভ্যালি বন্ধ করা কোনো সমাধান না। কোনো প্রতিষ্ঠানই বন্ধ করে ইনভেস্টমেন্ট ফেরত আনা সম্ভব নয়। আমাদের ব্যবসা করার সুযোগ দিন, আমরা কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেব না।

বর্তমান সমস্যার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা অনেককে রি-ফান্ডের চেক দিয়েছি তা আটকে গেছে। দুটি ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলেছি, এটি সমাধানে আরও সাত থেকে ১০ দিন সময় লাগবে। এর মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে আমাদের পুরনো সব অর্ডার ডেলিভারি দেব। এজন্য সহযোগিতা দরকার।

ক্ষোভ প্রকাশ করে ইভ্যালির সিইও বলেন, গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা ও ভবিষ্যতে সুরক্ষার জন্য অনেকে কথা বলছেন। কিন্তু বিষয়টা সমাধানের চেয়ে ইভ্যালির বন্ধ করাই এখন বেশি জোর দিচ্ছেন তারা। অনেকে বলছে ইভ্যালির যে লস হয়েছে তা পূরণ করা সম্ভব নয়। এটা আসলে ঠিক না। একটা প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে এ কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের ভ্যালুয়েশন করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিজনেস ভ্যালুয়েশন করলে এ লস রিকভারি করা সম্ভব। এখন আমাদের সঙ্গে অনেক বড় বড় কোম্পানি আছে। অপ্পো, স্যামসাং, টেকনো, যমুনা ইলেকট্রনিক্স, ওয়ালটন, বসুন্ধরা গ্রুপ, বাটা ও কোকা কোলার মতো কোম্পানি আমাদের সঙ্গে রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান কি না বুঝেই আমাদের সঙ্গে ব্যবসা করছে?

তিনি বলেন, অনিয়মের বিষয়ে মিডিয়ায় যে কথাগুলো আসে এগুলোকে আমি এপ্রিশিয়েট করি। কারণ স্বাধীনতার পর আমাদের দেশে অনেক ফাইনান্সিয়াল ক্রাইম হয়েছে। কিন্তু ইভ্যালিকে সেই ক্রাইমে সঙ্গে মেলানো হয়েছে যা ইনজাস্টিস।

তিনি আরও বলেন, সরকারের দুটি সংস্থা ই-কমার্স নিয়ে কাজ করছে। গত মাসের ২৯ তারিখ ই-কমার্স পরিচালনা সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। এতে করে একটি স্টান্ডার্ড অপারেটর সিস্টেম চালু হয়েছে। যে নির্দেশনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দিয়েছে তা আমাদের মানতে হবে। এ নিয়ম না মানলে মন্ত্রণালয় আমাদের লাইসেন্স বাতিল করে ব্যবসা বন্ধ করে দেবে। এই সিস্টেমে এখন ৪৫-৬০ দিনের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। এখন সর্বোচ্চ ১০ দিনের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি দিতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেমের যে নির্দেশনা দিয়েছে গ্রাহক পণ্য বুঝে না পেলে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অর্থ পাবে না। এসব নিয়মের কারণে ভবিষ্যতে ই-কমার্সে গ্রাহকের ক্ষতিগ্রস্ত বা প্রতারিত হওয়ার সুযোগ নেই।

মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ইভ্যালি কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭০ লাখ অর্ডারের পণ্য গ্রাহককে ডেলিভারি দিয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা। আমাদের ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে গেছে। আমাদের কিছু সহযোগিতা প্রয়োজন। আমাদের ১০ লাখ ইউনিক গ্রাহক আছে। এখন আমাদের সুযোগ দিলে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারব। আগামীতে আমরা ডিসকাউন্ট অফার আস্তে আস্তে কমিয়ে লস কমাব।

উল্লেখ্য, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালির মোট দায় ৪০৭ কোটি টাকা উল্লেখ করে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, গ্রাহকের থেকে অগ্রিম হিসেবে ২১৪ কোটি টাকা এবং মার্চেন্টদের থেকে বাকিতে পণ্য বাবদ ১৯০ কোটি টাকা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সব মিলিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের কাছে ৪০৪ কোটি টাকা থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ৬৫ কোটি টাকা। হদিস নেই ৩৩৯ কোটি টাকার। প্রতিষ্ঠানটি কিভাবে এই ঘাটতি কাটিয়ে উঠবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় এখানে বিনিয়োগকারীরা। একইসঙ্গে পাওনা টাকা তুলতে বিপাকে মার্চেন্টগুলোও।

চিঠিতে এসব তথ্য উল্লেখ করে ইভ্যালির বিরুদ্ধে তদন্ত করে আর্থিক অনিয়ম পেলে দুদককে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। টাকা নিয়েও পণ্য না দেয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে।