ঢাকা     ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ২৬ মাঘ ১৪৩২

Biz Tech 24 :: বিজ টেক ২৪

অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে অচল চট্টগ্রাম বন্দর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:৩৬, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে অচল চট্টগ্রাম বন্দর

বিদেশি কোম্পানির কাছে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা না দেওয়ার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। এতে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে।

রোববার (৮ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে তারা এই কর্মসূচি শুরু করে। তবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান দাবি করেছেন, শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন এবং বন্দর সচল রয়েছে। এদিকে শিপিং এজেন্ট, কাস্টমস এজেন্ট, বার্থ অপারেটর ও শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটররা বলছেন, বন্দরের টার্মিনালগুলোতে জাহাজ থেকে কন্টেইনার ওঠানামা, পণ্য ডেলিভারিসহ সব ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ রয়েছে। এমনকি আজ সকাল থেকে বহির্নোঙরে থাকা কার্গো জাহাজগুলো থেকেও পণ্য খালাস বন্ধ আছে। বন্দরের তথ্যমতে, ৪১ হাজারেরও বেশি কন্টেইনার আটকে আছে টার্মিনাল ইয়ার্ডগুলোতে।

সরেজমিনে জানা গেছে, সকাল ৮টা থেকে জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল ও প্রশাসনিক ভবনের পাশাপাশি বহির্নোঙরেও (আউটার লাইটারেজ) পণ্য খালাস ও পরিচালনা কাজ বন্ধ রয়েছে। এই কর্মবিরতির কারণে চট্টগ্রাম বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় ২০০ সাধারণ কর্মচারী ও শ্রমিককে রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় বন্দর ভবনের সম্মেলন কক্ষে জরুরি সভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন।

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন। পরিষদের অন্য তিনটি দাবি হলো—চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানকে প্রত্যাহার, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল এবং শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে মামলাসহ সব ধরনের আইনি হয়রানি বন্ধ করা।

বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, সকাল ৮টা থেকে সব ধরনের কাজ বন্ধ রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলবে। শ্রমিক নেতাদের হয়রানি করা হচ্ছে অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, গতকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে আমাদের নেতাদের হয়রানি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমাদের দুই শ্রমিক নেতা শামসু মিয়া টুকু ও আবুল কালাম আজাদকে প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে তুলে নেয়া হয়েছে। এভাবে ভয় দেখিয়ে আন্দোলন দমানো যাবে না।