Biz Tech 24 :: বিজ টেক ২৪

ঘুরে দাঁড়াতে চায় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো

প্রকাশিত: ১৩:০৭, ৭ জানুয়ারি ২০২১

ঘুরে দাঁড়াতে চায় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো

এক দশকের মাঝে গাড়ি প্রস্তুতকারকদের জন্য সবচেয়ে দুর্বলতম বছর ছিলে ২০২০ সাল। করোনার কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে এখন ঘুরে দাঁড়াতে চায় গাড়ি প্রস্তুতকারকরা। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে স্পোর্টস কার, পিকআপ ট্রাক ও বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রির মধ্য দিয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির আশা করছে প্রতিষ্ঠানগুলো। জনজীবনে ভ্যাকসিনের প্রভাব পড়ার সঙ্গে গাড়ি বিক্রির গতিও বাড়তে শুরু করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গাড়ি নির্মাতাদের হিসাব মতে, গত বছর ১ কোটি ৪৫ লাখ গাড়ি ও হালকা ট্রাক বিক্রি হয়েছে, যা কিনা ২০১৯ সালের তুলনায় ১৫ শতাংশ কম এবং ২০১২ সালের পর সর্বনিম্ন। এদিকে শিল্পটি যখন অর্থনৈতিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে, তখন জেনারেল মোটরস ও ক্রাইসলারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের কাছ থেকে সহায়তা এবং দেউলিয়াত্ব সুরক্ষা প্রত্যাশা করছে।

তবে মহামারী দ্বারা সৃষ্ট জটিলতাগুলো মন্দার মতো করে প্রস্তুতকাকরদের ক্ষতিগ্রস্ত করেনি এবং বিভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলগুলোয়ও একই রকমভাবে আঘাত হানেনি।  গত বসন্তে নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তৃতি কমানোর জন্য উত্তর আমেরিকার গাড়ি প্রস্তুতকারক কারখানাগুলো যখন একযোগে বন্ধ করে দেয়া হয়, সে সময় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এ খাত। পাশাপাশি সে সময় অনেক গ্রাহককেও বাধ্যতামূলকভাবে গৃহবন্দি হয়ে পড়তে হয়। কিন্তু পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলে মানুষের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে বিক্রিও নতুন পথ খুঁজে পেতে থাকে।

গত মঙ্গলবার জেনারেল মোটরসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ২০২০ সালে গাড়ি বিক্রি কমেছে ১২ শতাংশ। কিন্তু চতুর্থ প্রান্তিকে গিয়ে আগের বছরের তুলনায় সেটি ৫ শতাংশ বেড়েছে। শেষ তিন মাসে শেভরোলেট, জিএমসি ও কাডিলাক ব্র্যান্ড থেকে দারুণ ফল এসেছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

সব মিলিয়ে ২০২০ সালে ২৫ লাখ গাড়ি ও হালকা ট্রাক বিক্রি করেছে জিএম। ২০১৯ সালে যেখানে বিক্রি হয়েছিল ২৯ লাখ। তবে মার্কিন এ গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি বলছে, শেষ তিন মাসে তারা ৭ লাখ ৭১ হাজার ৩২৩টি গাড়ি বিক্রি করেছে, যা ২০০৭ সালের পর যেকোনো চতুর্থ প্রান্তিকের হিসাবে সর্বোচ্চ।

জিএমের চিফ ইকোনমিস্ট এলাইন বাকবার্গ বলেন, বিস্তৃত ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম এবং উষ্ণ আবহাওয়ায় আগামী বসন্তে ভোক্তা ও ব্যবসা উভয়ই স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরে আসবে বলে আশা করছি। যেখানে চাকরির বাজার, ভোক্তাদের মনোভাব এবং গাড়ির চাহিদা সব ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফক্সওয়াগনের প্রধান নির্বাহী স্কট কিওগ বলেন, একজন মানুষ যতটা আশাবাদী হতে পারে, আমি ততটাই আশাবাদী। সবকিছু এখন নির্ভর করছে কত দ্রুত আমরা ভ্যাকসিন পাচ্ছি তার ওপর।