Biz Tech 24 :: বিজ টেক ২৪

নিষিদ্ধ হচ্ছে পাবজি-ফ্রি ফায়ার

বিজটেক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৪৫, ২৯ মে ২০২১

নিষিদ্ধ হচ্ছে পাবজি-ফ্রি ফায়ার

দেশের উঠতি বয়সী গেমারদের জন্য দুঃসংবাদ। কিশোরদের অন্যতম আসক্তির দুই গেম ফ্রি ফায়ার ও পাবজি বাংলাদেশে নিষিদ্ধের পথে হাঁটছে সরকার। এরইমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি নিয়ে সুপারিশ করা হয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি)। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে এ নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। আলোচনায় গেম দুটি নিয়ে উদ্বেগ জানান অংশগ্রহণকারীরা। 

জানা গেছে, বিরূপ প্রতিক্রিয়া এড়াতে হঠাৎ বন্ধ না করে বিকল্প পদ্ধতিতে ধীরে ধীরে গেম দুটি বন্ধের পথে হাঁটবে বিটিআরসি। যারা এ গেমে আসক্ত তারা ভিপিএনসহ বিকল্প উপায়ে খেলতে পারবেন গেম দুটি। সেগুলোও বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গেম দুটি খেলার ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে বলেও বিভিন্ন তথ্যে উঠে এসেছে। 

২০১৯ সালে বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক ডাউনলোড করা মোবাইল গেমটি ছিলো ফ্রি ফায়ার। এটি ওই বছর গুগল প্লে স্টোরের সেরা জনপ্রিয় ভোট গেমের জন্য পুরস্কার পায়। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে বন্দুক দিয়ে মুসলমানদের হত্যা এবং সেই দৃশ্য ফেসবুকে লাইভের বিষয়টি পাবজির সঙ্গে তুলনা করেন অনেকে। নেপালে সম্প্রতি পাবজি নিষিদ্ধ করেছে দেশটির আদালত। ভারতের গুজরাটেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল। এমনকি কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। 

অনলাইন গেম পাবজি নেতিবাচক প্রভাব ফেলার পাশাপাশি শিক্ষার্থী- কিশোর-কিশোরীদের সহিংস করে তুলছে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, তরুণ প্রজন্মের মাঝে বেশ জনপ্রিয় ফ্রি ফায়ার ও পাবজি। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান ব্লু হোয়েল গেমটি ২০১৭ সালে চালুর পর দ্রুত বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। চায়না প্রতিষ্ঠানের ২০১৯ সালে তৈরি করা ফ্রি ফায়ারও একইভাবে তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

তিনি আরও বলেন, গেম দুটির অপব্যবহারের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় তরুণ প্রজন্ম ‘কিশোর গ্যাং’ গঠন করছে। তারা চরমভাবে বিপথগামী হয়ে উঠেছে। করোনাভাইরাস মহামারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায়  অনলাইন ক্লাস করতে অভিভাবকরা সন্তানদের হাতে ল্যাপটপ, স্মার্টফোন তুলে দিতে বাধ্য হচ্ছে। এ সুযোগে অপব্যবহার ঘটছে। এ জন্য গেম দুটি নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।