ঢাকা     ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ১২ ফাল্গুন ১৪৩২

Biz Tech 24 :: বিজ টেক ২৪

আকাশে একসঙ্গে দেখা মিলবে ছয় গ্রহের বিরল সমাবেশ

বিজটেক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:০২, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আকাশে একসঙ্গে দেখা মিলবে ছয় গ্রহের বিরল সমাবেশ

আকাশপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে একটি বিশেষ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক দৃশ্য। সূর্যাস্তের পর অল্প সময়ের জন্য সৌরজগতের ছয়টি গ্রহকে আকাশের একই অংশে দেখা যাবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এ ঘটনাকে ‘প্ল্যানেটারি প্যারেড’ বা গ্রহসমাবেশ বলে উল্লেখ করেন।

আগামী শনিবার সূর্য ডোবার কিছুক্ষণ পর পশ্চিম আকাশে বুধ, শুক্র, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন অবস্থান করবে প্রায় একই সরল রেখার কাছাকাছি। তবে এই দৃশ্য উপভোগের সময় খুব সীমিত—প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট। এরপর কয়েকটি গ্রহ দ্রুত দিগন্তের নিচে চলে যাবে।

গ্রহগুলো সূর্যকে প্রায় একই সমতলে প্রদক্ষিণ করে, যাকে এক্লিপটিক বলা হয়। এ কারণে নির্দিষ্ট সময়ে পৃথিবী থেকে একাধিক গ্রহকে একই অঞ্চলে দেখা সম্ভব হয়। কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষক ড. শ্যাম বালাজি জানিয়েছেন, গ্রহগুলো এমন অবস্থানে থাকবে যে আকাশে সারিবদ্ধ মনে হবে, যদিও বাস্তবে তারা একে অপরের থেকে বিশাল দূরত্বে অবস্থান করছে।

ছয়টি গ্রহের মধ্যে চারটি খালি চোখে দেখা যেতে পারে। সবচেয়ে উজ্জ্বল থাকবে শুক্র, যা পশ্চিম আকাশে তুলনামূলক নিচু অবস্থানে দেখা যাবে। বৃহস্পতি ও শনি সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। বুধ দিগন্তের খুব কাছে থাকবে, ফলে পরিষ্কার দিগন্ত না হলে সেটি চিহ্নিত করা কঠিন হতে পারে।

ইউরেনাস ও নেপচুন দেখতে দূরবীন প্রয়োজন হবে। নেপচুন খালি চোখে দেখা যায় না, আর ইউরেনাস খুঁজে পেতে সহায়ক হবে তার অবস্থান চিহ্নিতকারী নক্ষত্রমণ্ডল। প্রায় পূর্ণ চাঁদের আলো থাকলে এ দুটি গ্রহ খুঁজে পাওয়া আরও কঠিন হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা আশ্বস্ত করেছেন, এই গ্রহসমাবেশের পৃথিবীর ওপর কোনো উল্লেখযোগ্য মহাকর্ষীয় প্রভাব পড়বে না। চাঁদ বা সূর্যের তুলনায় গ্রহগুলোর সম্মিলিত আকর্ষণ খুবই নগণ্য।

উত্তর গোলার্ধে দৃশ্যটি তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট দেখা যাবে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে বাংলাদেশ থেকেও এ বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করা সম্ভব।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, চার বা পাঁচটি গ্রহের এমন সমাবেশ কয়েক বছর পরপর ঘটলেও ছয় গ্রহ একসঙ্গে দেখার সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম। একই ধরনের আরেকটি সমাবেশ ২০২৮ সালের অক্টোবরে ঘটবে, তবে তখন পাঁচটি গ্রহ দৃশ্যমান হবে। এরপর পরবর্তী উল্লেখযোগ্য সমাবেশের সম্ভাবনা রয়েছে ২০৩৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে।