Biz Tech 24 :: বিজ টেক ২৪

ই-ভ্যালির আর্থিক অব্যবস্থাপনা তদন্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বিজটেক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৫:২৮, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

আপডেট: ১৪:১৮, ৪ মার্চ ২০২১

ই-ভ্যালির আর্থিক অব্যবস্থাপনা তদন্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

অনলাইনে পণ্য বেচাকেনার প্রতিষ্ঠান ই-ভ্যালির আর্থিক অব্যবস্থাপনার ত্রুটি তদন্তের ভার এবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর। একই সঙ্গে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নতুন করে তদন্ত করে প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীনকে এ ব্যাপারে চিঠি পাঠিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া অপর এক চিঠিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে ই-ভ্যালির কার্যক্রম তদারক করতে এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলকে আইন মেনে ই-ভ্যালি যাতে ব্যবসা করে, সে ব্যাপারে নির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে। নতুন করে ই-ভ্যালি নিয়ে কাজ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চারটি দপ্তরকে।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে ই-ভ্যালির ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কার্যালয়কে (আরজেএসসি) পৃথকভাবে চিঠি দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এর মধ্যে গত ১২ জানুয়ারি শুধু জননিরাপত্তা বিভাগ প্রতিবেদন তৈরি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। এবারের তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এ প্রতিবেদনেরই সুপারিশ মেনে। এ দফার চার চিঠিতে তা উল্লেখও করা হয়।

জননিরাপত্তা বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়, দণ্ডবিধি ১৮৬০ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের আইন ২০০৯ অনুযায়ী অগ্রিম মূল্য নেওয়ার পর সময়মতো পণ্য সরবরাহ না করা অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণা। এর শাস্তি এক থেকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড।

ক্যাশব্যাক অফারে গ্রাহকদের টাকা ফেরত না দিয়ে নিজের ওয়ালেটে রাখছে ই-ভ্যালি। আবার পণ্য কেনার সময় গ্রাহকদের ১০০ শতাংশ অর্থ ব্যবহার করতে দিচ্ছে না। এ ধরনের অপরাধের দায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া ই-ভ্যালি তার গ্রাহকদের সঙ্গে হটলাইন নম্বর, সাপোর্ট ই-মেইল, ই-ভ্যালি অ্যাপ্লিকেশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যথাযথভাবে যোগাযোগ করে না বলেও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে ই-ভ্যালি গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা না করে বরং নিজের কাছে রেখে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। আর এসবের মাধ্যমে ই-ভ্যালি দণ্ডবিধি, ১৮৬০–এর পাঁচটি ধারা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯–এর দুটি ধারা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮–এর একটি ধারা লঙ্ঘন করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে পাঠানো চিঠিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ই-ভ্যালির আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কোনো ত্রুটি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশনা দেয়া হলো।’

জননিরাপত্তা বিভাগের সচিবকে পাঠানো চিঠিতে ই-ভ্যালির বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগগুলো সিআইডির সংঘবদ্ধ অপরাধ শাখার মাধ্যমে তদন্ত করার কথা বলা হয়েছে।

এদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চিঠিতে বলেছে, ই-ভ্যালি কতগুলো ক্রয় আদেশ পেয়েছে এবং কী পরিমাণ সরবরাহ করেছে, তা তদারক করে প্রতি মাসে প্রতিবেদন পাঠাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। ই-ভ্যালির কার্যক্রম পরিচালনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না, তা–ও তদারক করতে বলা হয়েছে।

এদিকে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই–ক্যাব), ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ই-ভ্যালিকে ব্যবসা করার নির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলকে।