Biz Tech 24 :: বিজ টেক ২৪

কঠোর লকডাউন

বন্ধই থাকছে পোশাক কারখানা, ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের

বিজটেক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৬:৩১, ২৪ জুলাই ২০২১

বন্ধই থাকছে পোশাক কারখানা, ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের

মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশজুড়ে চলছে ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন। এর আগে কয়েকধাপে সরকার বিধিনিষেধ আরোপ করলেও পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের দেনদরবারে চালু ছিলো দেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানাগুলো। তবে চলমান লকডাউনে সুবিধা করতে পারেনি এ খাতের ব্যবসায়ীরা। যার ফলে আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধই থাকছে গার্মেন্টস সেক্টর। ফলে শ্রমিকেরা নিজ নিজ অবস্থানে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন।

টানা ১৪ দিন কারখানা বন্ধ থাকায় নানাভাবে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে দাবি করছেন পোশাক ও বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে শ্রমিকনেতাদের ভাষ্য, কারখানা বন্ধের অজুহাতে শ্রমিকদের জুলাই মাসের বেতন কম দেওয়ার সুযোগ খুঁজতে পারেন অনেক কারখানার মালিক। সে রকম কিছু ঘটলে সরকারের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান তারা। 

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে চলতি বছরের এপ্রিলে সরকার বিধিনিষেধ আরোপ করলেও রপ্তানিমুখী পোশাকসহ অন্যান্য শিল্পকারখানা উৎপাদন চালানোর সুযোগ পায়। সর্বশেষ গত ২৮ জুন শুরু হওয়া সীমিত ও পরে ১ জুলাই থেকে কঠোর বিধিনিষেধেও পোশাকসহ অন্যান্য শিল্পকারখানা খোলা ছিলো। তবে ২৩ জুলাই, অর্থাৎ গতকাল শুক্রবার শুরু হওয়া কঠোর বিধিনিষেধে সব ধরনের শিল্পকারখানা বন্ধ থাকবে, এই প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে সরকারের সঙ্গে দেনদরবারে নামেন পোশাক ও বস্ত্র খাতের পাঁচ সংগঠনের নেতারা। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিও দেন তাঁরা। তবে শেষ পর্যন্ত কিছুই কাজে আসেনি। সরকার নমনীয় হয়নি।

শুধু চামড়া, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত, ওষুধ, অক্সিজেন ও করোনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদন বিধিনিষেধের বাইরে রাখা হয়েছে। 

বিজিএমইএর সহসভাপতি মো. শহিদউল্লাহ আজিম গতকাল বলেন, ‘ঈদের ছুটির পর কারখানা খোলার বিষয়টি পুরোপুরিভাবে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। সরকার বিধিনিষেধ শিথিল করলেই কারখানা খোলা যাবে, এমন সিদ্ধান্ত আমরা আমাদের সংগঠনের সদস্যদের অবহিত করেছি। তবে রপ্তানি কার্যক্রম চলবে।’

অবশ্য গত সোমবার বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি খুদে বার্তা পাঠিয়ে বলেন, ‘পরিস্থিতির উন্নতি হওয়া সাপেক্ষে আগামী ১ আগস্ট থেকে শিল্পকারখানা পরিচালনার প্রস্তুতি রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করছি।’

অন্যদিকে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘আমরা সদস্য কারখানাগুলোকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছুটি দিতে পরামর্শ দিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, যেসব ক্রয়াদেশের পণ্য প্রস্তুত আছে, সেগুলো রপ্তানিতে সমস্যা হবে না। তবে ঈদের পর উৎপাদন শুরু হলে যেসব ক্রয়াদেশের পণ্য রপ্তানির পরিকল্পনা ছিল, সেগুলো নিয়ে বিপদে পড়বেন ব্যবসায়ীরা। অনেক ক্ষেত্রেই ক্রেতা প্রতিষ্ঠান উড়োজাহাজে পণ্য পাঠাতে বলবে। কারণ, ইউরোপ-আমেরিকা স্বাভাবিক হওয়ায় বিক্রি বেড়েছে।

বিধিনিষেধের মধ্যে অন্তত ডায়িং, স্পিনিং ও নিটিং কারখানা চালানোর সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, এসব কারখানায় বেশি শ্রমিক লাগে না। তাদের কারখানায় থাকার ব্যবস্থাও আছে। তাদের সুযোগ দিলে কিছুটা এগিয়ে থাকা যাবে।

ঈদের ছুটিতে থাকা শ্রমিকেরা একধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন বলে মন্তব্য করেন শ্রমিকনেতা বাবুল আখতার। তিনি বলেন, অনেক কারখানাই চলতি সপ্তাহে চালুর ঘোষণা দিয়েছিল। তাই ছুটির বিষয়ে শ্রমিকদের পরিষ্কার ধারণা দেওয়া দরকার। মালিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকার ঘোষণা দিলে শ্রমিকেরা আশ্বস্ত হবেন বলে মনে করেন এই শ্রমিকনেতা।