ঢাকা     ২০ মে ২০২৫ ||  ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২

Biz Tech 24 :: বিজ টেক ২৪

পোশাক রপ্তানিতে আবারো সুবাতাস

বিজটেক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৮:০৪, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২

আপডেট: ১৫:৫৩, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২

পোশাক রপ্তানিতে আবারো সুবাতাস

তৈরি পোশাক রপ্তানিতে আবারো সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। ভিয়েতনামের কাছে হারানো অবস্থান এরই মধ্যে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ। ২০২১ সাল শেষে ভিয়েতনামের চেয়ে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ৪৭২ কোটি ডলার বেশি। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) পরবর্তী প্রতিবেদনে দ্বিতীয় অবস্থানের এই স্বীকৃতি পাওয়া যাবে। সদস্য দেশগুলোর রপ্তানি বাণিজ্যের বিশ্নেষণ নিয়ে প্রতিবছর জুনে এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে সংস্থাটি।

এ বিষয়ে ডব্লিউটিওর পর্যালোচনা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে ভিয়েতনামের কাছে দ্বিতীয় প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক দেশের মর্যাদা হারায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের চেয়ে ১০০ কোটি ডলার মূল্যের পোশাক বেশি রপ্তানি করে এগিয়ে যায় ভিয়েতনাম। ওই বছর বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৮০০ কোটি ডলার। ভিয়েতনামের ছিল দুই হাজার ৯০০ কোটি ডলার।

মূলত অতি মহামারী করোনার প্রভাবেই বাংলাদেশের দ্বিতীয় অবস্থান খোয়া যায়। ওই বছরের মার্চে দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর কয়েক দফা লকডাউনে মোট ৬৫ দিন পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকে। এ সুযোগে ভিয়েতনাম পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে যায়।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং ভিয়েতনামের ট্রেড প্রমোশন কাউন্সিলের (ভিয়েট্রেড) পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২১ সালে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৫৮০ কোটি ডলার। একই বছর ভিয়েতনামের রপ্তানির মোট পরিমাণ তিন হাজার ১০৮ কোটি ডলার।

এ বিষয়ে বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম জানান, বাংলাদেশের পোশাক খাত করোনার প্রথম ধাক্কায় কিছুটা এলোমেলো ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে কারখানা বন্ধ ছিল। অনেক ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠান রপ্তানি আদেশ বাতিল করেছে। দরও কম দিয়েছে। ওই সময়টায় ভিয়েতনামে পুরোদমে উৎপাদন কার্যক্রম চলছিল। পরে খুব কম সময়ের ব্যবধানে আমরা করোনা পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর বিষয়টি আয়ত্ত করেছি। কড়া সমালোচনার মুখেই সাহসী সিদ্ধান্ত হিসেবে সরকার কারখানা খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে। আপৎকালীন শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধে প্রণোদনাও দেওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের পোশাক খাত।

তিনি আরো বলেন, সার্বিক পরিস্থিতিও বাংলাদেশের অনুকূলে ছিল। চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য বিরোধ, ভারতে করোনার দীর্ঘ উপস্থিতি ও মিয়ানমারে অস্থিরতার বিষয়গুলোও বাংলাদেশের পক্ষে গেছে। দুই ক্রেতা জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের তত্ত্বাবধানে সংস্কার উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প পরিবেশের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এসব মিলিয়ে প্রচুর পরিমাণে রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে। বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে ভিয়েতনাম আর কখনোই বাংলাদেশকে টপকাতে পারবে না।

premierbankltd