ঢাকা     ১৮ জুলাই ২০২৬ ||  ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

Biz Tech 24 :: বিজ টেক ২৪

যেভাবে ইভি গাড়ির বিশ্ববাজার দখল করছে চীন

প্রকাশিত: ১৬:৫৮, ৩ মে ২০২৬

আপডেট: ১২:৪৪, ৫ মে ২০২৬

যেভাবে ইভি গাড়ির বিশ্ববাজার দখল করছে চীন

অত্যাধুনিক ফিচার, কম দাম এবং বিশাল উৎপাদন সক্ষমতার কারণে বিশ্বজুড়ে বৈদ্যুতিক যানবাহন বা ইভির (ইলেকট্রিক ভেহিকল) বাজারে চীনের দ্রুত উত্থান দেখা যাচ্ছে। 

সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অটো শোতে চীনা নির্মাতাদের নতুন প্রজন্মের গাড়িগুলো প্রযুক্তিগত দিক থেকে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। এসব গাড়িতে রয়েছে ঘুরিয়ে বসার মতো সিট, ইন-বিল্ট কারাওকে সিস্টেম, এমনকি হেডলাইটের মাধ্যমে প্রজেক্টরের মতো সিনেমা দেখার সুবিধা। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এসব উন্নত ‘ইন্টেলিজেন্ট ড্রাইভিং’ ফিচার এখন তুলনামূলক কম দামের গাড়িতেও পাওয়া যাচ্ছে।

চীনের এই অগ্রগতির পেছনে বড় কারণ তাদের উৎপাদন দক্ষতা ও সাপ্লাই চেইনের শক্তিশালী ভিত্তি। স্বয়ংক্রিয় কারখানা, সরকারি ভর্তুকি এবং প্রযুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ফলে দেশটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইভি উৎপাদক। বর্তমানে চীনে বিক্রি হওয়া নতুন গাড়ির অর্ধেকেরও বেশি ইলেকট্রিক বা হাইব্রিড।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত সচেতনতা বৃদ্ধিও চীনের জন্য বড় সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেল ও গ্যাসের দামের ঊর্ধ্বগতির ফলে অনেক দেশই বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে আর সেই জায়গাতেই চীনের ইভি প্রযুক্তি দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, শুধু ইভি ও হাইব্রিড গাড়ির ব্যবহারের কারণে চীনে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেলের ব্যবহার কমেছে।

তবে অভ্যন্তরীণ বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং মূল্যযুদ্ধের কারণে চীনা কোম্পানিগুলো এখন বিদেশি বাজারে আরও বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম প্রান্তিকে চীনের ইভি রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপীয় বাজারে ইতোমধ্যে চীনা ব্র্যান্ডগুলোর উপস্থিতি দ্রুত বাড়ছে এবং সেখানে তাদের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চীনা ইভির অগ্রযাত্রাকে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। উচ্চ শুল্ক, সফটওয়্যার নিষেধাজ্ঞা এবং বাজারে প্রবেশে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে দেশটি চীনা গাড়ির প্রবেশ সীমিত করার চেষ্টা করছে। তবে ইউরোপ তুলনামূলকভাবে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রেখে শুল্কের মাধ্যমে ভারসাম্য আনার পথে হাঁটছে।

চীনা নির্মাতাদের লক্ষ্য শুধু গাড়ি বিক্রি না বৈশ্বিক প্রযুক্তি নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং, স্মার্ট কানেক্টিভিটি এবং এআইভিত্তিক ফিচারে তারা দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। এক্সপেং, বিওয়াইডি ও হুয়াওয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে এই খাতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে, যা টেসলার মতো প্রতিষ্ঠানের জন্যও বড় প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করছে।

সব মিলিয়ে, ইভি খাতে চীনের উত্থান বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি রাজনীতি এবং প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাকে নতুনভাবে নির্ধারণ করছে।