ঢাকা     ১৮ জুলাই ২০২৬ ||  ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

Biz Tech 24 :: বিজ টেক ২৪

মোটরসাইকেল-অটোরিকশাও আসছে এনবিআরের কর জালে

বিজটেক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৩:২৭, ১২ মে ২০২৬

আপডেট: ১৩:৪৪, ১৯ মে ২০২৬

মোটরসাইকেল-অটোরিকশাও আসছে এনবিআরের কর জালে

দেশজুড়ে চলাচল করা লাখ লাখ মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে করের আওতায় আনতে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে মোটরসাইকেলের ওপর নতুন করে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপ এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার জন্যও কর নির্ধারণের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যানবাহন নিবন্ধনের সময় আদায়কৃত রোড ট্যাক্সের পাশাপাশি মোটরসাইকেলের ওপর আলাদা অগ্রিম আয়কর আরোপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ইঞ্জিন সক্ষমতার ভিত্তিতে বিদ্যমান মোটরযান করও বাড়ানোর চিন্তা করছে এনবিআর।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মূলত উচ্চ সিসির মোটরসাইকেল ও বিলাসবহুল যানবাহনের মালিকদের করের আওতায় আনতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল নতুন এই করের আওতার বাইরে থাকতে পারে। তবে ১১১ থেকে ১২৫ সিসির মোটরসাইকেলের জন্য বছরে ২ হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসির বাইকের জন্য ৫ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি ইঞ্জিন ক্ষমতার মোটরসাইকেলের জন্য বছরে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর নির্ধারণের চিন্তা করা হচ্ছে।

বর্তমানে মোটরসাইকেল মালিকরা নিবন্ধন ফির সঙ্গে রোড ট্যাক্স পরিশোধ করেন। দুই বছরের জন্য এই কর ২ হাজার ৩০০ টাকা এবং ১০ বছরের জন্য ১১ হাজার ৫০০ টাকা। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে এর সঙ্গে অতিরিক্ত করের বোঝা যুক্ত হবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৪৮ লাখের বেশি নিবন্ধিত মোটরসাইকেল রয়েছে। এর বড় একটি অংশ রাইড-শেয়ারিং, ডেলিভারি সার্ভিস, ওষুধ সরবরাহ, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ব্যক্তিগত যাতায়াতে ব্যবহৃত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চমূল্যের স্পোর্টস বা প্রিমিয়াম বাইকের ওপর কর আরোপ যৌক্তিক হলেও সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের ওপর বাড়তি কর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে রাইড-শেয়ারিং চালক ও স্বল্প আয়ের মানুষ এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

রাইড-শেয়ারিং চালক রমজান আলী বলেন, এখন আয় কমে গেছে, খরচ বেড়েছে। এর মধ্যে যদি প্রতি বছর নতুন ট্যাক্স দিতে হয়, তাহলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে।

নতুন করজালে শুধু মোটরসাইকেল না, ‘বাংলা টেসলা’ নামে পরিচিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকেও আনার পরিকল্পনা করছে এনবিআর। প্রস্তাব অনুযায়ী, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় চলাচলকারী অটোরিকশার জন্য বছরে ৫ হাজার টাকা, পৌরসভা এলাকায় ২ হাজার টাকা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ১ হাজার টাকা এআইটি নির্ধারণ করা হতে পারে।

বর্তমানে দেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঠিক সংখ্যা না থাকলেও খাতসংশ্লিষ্টদের ধারণা, এ ধরনের যানবাহনের সংখ্যা ৩০ লাখের বেশি। সরকার ইতোমধ্যে ‘বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫’-এর খসড়া তৈরি করেছে, যেখানে নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ ও কর প্রদানের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকার রাজস্ব বাড়াতে নতুন খাত খুঁজছে। তবে কর আরোপের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের আর্থিক সক্ষমতা ও জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া না হলে জনঅসন্তোষ তৈরি হতে পারে।