চন্দ্র অভিযানকে সামনে রেখে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইওয়ালা হিউম্যানয়েড রোবট উন্মোচন করেছে চীন। রোবটটি চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি স্থাপন ও পরিবহনের জন্য একজন ‘কুলি’ হিসেবে কাজ করবে।
২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর লক্ষ্যেই চীন এ বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
রোবটটির নকশা তৈরি করেছে ‘হংকং ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’। একশ কেজি ওজনের এ রোবটটি একজন ‘কুলি’ বা বহনকারী হিসেবে কাজ করবে। চাঁদে নভোচারী নামার আগেই রোবটটি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া ও সেগুলো স্থাপন করার দায়িত্ব পালন করবে।
রোবটটির গঠন বেশ চমকপ্রদ। এর দেহের উপরের অংশ দেখতে মানুষের মতো ও দুটি হাত রয়েছে। দেহের নিচের অংশে রয়েছে চার চাকার একটি মডিউল, যা সৌরশক্তির মাধ্যমে চলবে।
‘হংকং ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’র অধ্যাপক গাও ইয়াং বলেছেন, “আমরা শুনেছি, চাং-ই-৭ অভিযানে সম্ভবত প্রথমবারের মতো চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে হিউম্যানয়েড রোবট নামানো হবে। তবে আমাদের রোবটটি দক্ষিণ মেরুর ভিন্ন এক অংশে যাবে। চাঁদের এলাকাটি অনেক বড়, আমরা এর পুরো অংশ নিয়েই আগ্রহী। চাঁদে হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের এ উদ্যোগ নতুন দৃষ্টান্ত হবে, যা চীন পরিচালনা করছে।
তিনি আরও বলেছেন, রোবটটিতে থাকা এআই যে কোনো বস্তু শনাক্ত এবং সেটির গতিবিধি অনুসরণ করতে পারবে। ফলে কোনো কাজ শুরুর আগেই রোবটটি নিজে থেকেই পরিকল্পনা বা কৌশল তৈরিতে সক্ষম হবে।
গত কয়েক দশক ধরে উচ্চাকাঙ্ক্ষী মহাকাশ কর্মসূচি চালানোর পর চীন ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদের পৃষ্ঠে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।
অন্যদিকে, নাসা তাদের ‘আর্টেমিস চার’ অভিযানের অংশ হিসেবে ২০২৮ সালের মধ্যে নভোচারীদের চাঁদে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। সংস্থাটির প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল ২০২৪ সালেই চাঁদে মানুষ নামানো। কারিগরি জটিলতা ও উন্নয়নমূলক কাজের ধীরগতির কারণে নাসার এ সময়সূচী বেশ কয়েকবার পরিবর্তন হয়েছে।
