ঢাকা     ১৮ জুলাই ২০২৬ ||  ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

Biz Tech 24 :: বিজ টেক ২৪

স্টার্টআপ খাতে বিনিয়োগে ৩৯টি ব্যাংকের যৌথ কোম্পানি গঠন

বিজটেক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:২২, ১২ মে ২০২৬

আপডেট: ১৪:১৯, ১৮ মে ২০২৬

স্টার্টআপ খাতে বিনিয়োগে ৩৯টি ব্যাংকের যৌথ কোম্পানি গঠন

দেশের স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী উদ্যোক্তাদের জন্য বড় ধরনের সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে নতুন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি পিএলসি (বিএসআইসি)’। দেশের ৩৯টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে গঠিত এই প্ল্যাটফর্মের প্রাথমিক মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪২৫ কোটি টাকা, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় অন্যতম বড় প্রাতিষ্ঠানিক স্টার্টআপ তহবিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্ল্যাটফর্মটির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান।

বিএসআইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই তহবিলের আকার প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ। এটি শুধু এককালীন তহবিল না, অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো প্রতি বছর তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ এতে যুক্ত করবে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তহবিলের আকার আরও বাড়বে।

নতুন এই প্ল্যাটফর্মের আওতায় সিড, লেট-সিড এবং সিরিজ-এ পর্যায়ের স্টার্টআপে বিনিয়োগ করা হবে। প্রযুক্তিনির্ভর ও উদ্ভাবনী উদ্যোক্তাদের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই দেশে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের ঘাটতি ছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএসআইসি সেই ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের অর্থনীতি এখন নতুন ধাপে প্রবেশ করছে এবং সৃজনশীল অর্থনীতি বা “ক্রিয়েটিভ ইকোনমি” গড়ে তুলতে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, এই বিনিয়োগ কার্যক্রমে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না এবং সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান বলেন, দেশের আর্থিক খাতকে আরও উদ্ভাবনমুখী ও জবাবদিহিমূলক করতে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন ছিল। তিনি জানান, এর আগে ৫০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের উদ্যোগ সফল না হলেও এবার ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি টেকসই কাঠামো তৈরি হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের স্টার্টআপ খাতে ১০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ এলেও এর মধ্যে দেশীয় মূলধনের অংশ ছিল ৭ শতাংশেরও কম। ফলে বিএসআইসির যাত্রাকে দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে দেশীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ফিনটেক, এগ্রিটেক, হেলথটেক, এডটেক ও এআইভিত্তিক স্টার্টআপগুলো এই তহবিল থেকে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারে। একইসঙ্গে এটি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও বাংলাদেশের স্টার্টআপ খাতকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে।