Biz Tech 24 :: বিজ টেক ২৪

হুয়াওয়ের পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায় শাওমি

বিজটেক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:০৬, ১৬ জানুয়ারি ২০২১

আপডেট: ১৫:২১, ১৬ জানুয়ারি ২০২১

হুয়াওয়ের পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায় শাওমি

হুয়াওয়ের পর এবার ট্রাম্প প্রশাসনের বলি হতে চলেছে চীনের অপর স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান শাওমি। চীনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে শাওমিসহ মোট নয়টি চীনা প্রতিষ্ঠানকে যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কালো তালিকাভুক্তির এই খবর প্রকাশের পর এরইমধ্যে ১০ হাজার কোটি ডলার বাজারমূল্য হারিয়েছে শাওমি।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ স্মার্টফোন নির্মাতা শাওমি। ডিভাইস বাজারে প্রবেশের পর থেকে নজরকাড়া প্রবৃদ্ধি অর্জন করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের রোষানলে পড়ে বিশেষ কালো তালিকায় নাম ওঠায় মার্কিন বিনিয়োগকারীদের হারাতে চলেছে শাওমি। একই সঙ্গে নতুন করে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার কিনতে পারবে না মার্কিন কোনো বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান। শুধু তা-ই নয়, শাওমিতে বিনিয়োগ রয়েছে এমন মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১১ নভেম্বরের মধ্যে তহবিল সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্যান্য চীনা কোম্পানির মতোই শাওমিসহ নতুন করে কালো তালিকাভুক্ত করা নয় চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের সপক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেনি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। শাওমির ওপর মার্কিন খড়গ অনেকটা অপ্রত্যাশিত ছিল। কারণ শাওমি একটি স্মার্টফোন এবং ইলেকট্রনিকস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাতসংশ্লিষ্ট চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিষিদ্ধ এবং কালো তালিকাভুক্তিতে জোর দিয়ে আসছিল। যে কারণে এর আগে বিশ্বের বৃহৎ টেলিকম নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম নির্মাতা হুয়াওয়ে এবং সেমিকন্ডাক্টর টেকনোলজি কোম্পানি এসএমআইসিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। এ নিয়ে শাওমিসহ চীনের ৬০টির বেশি প্রতিষ্ঠানকে যুক্তরাষ্ট্রে কালো তালিকাভুক্ত করা হলো।

সর্বশেষ ২০১৯ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রথমবার প্রতিষ্ঠানটির রাজস্বে স্মার্টফোন ব্যবসা বিভাগের গুরুত্ব কমতে দেখা যায়। ওই সময় বাজারমূল্য ধরে রাখা নিয়ে সংকটে পড়ে শাওমি। তবে সে সংকট কাটিয়ে উঠতে খুব বেশিদিন সময় লাগেনি প্রতিষ্ঠানটির। এর পেছনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে স্মার্টফোনের গুরুত্বপূর্ণ বাজার ভারতে শাওমির নজরকাড়া উত্থান। দেশটিতে স্যামসাংকে হটিয়ে শীর্ষ অবস্থানে জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছিল শাওমি। যুক্তরাষ্ট্রে কালো তালিকাভুক্তি চীনের উদীয়মান স্মার্টফোন ব্র্যান্ডটির প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে গত বছর তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আইফোন নির্মাতা অ্যাপলকে হটিয়ে শীর্ষ তিন নম্বরে উঠে এসেছে শাওমি। ওই সময় বাজারটিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে ছিল যথাক্রমে দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক স্যামসাং ও চীনভিত্তিক হুয়াওয়ে। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও কালো তালিকাভুক্তির কারণে চলতি বছর স্মার্টফোন ব্র্যান্ড হিসেবে হুয়াওয়ে শীর্ষ পাঁচ থেকে ছিটকে পড়বে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হুয়াওয়ের মতো মার্কিন প্রযুক্তি ক্রয় এবং নিজস্ব পণ্য উন্নয়ন নিয়ে খুব একটা জটিলতায় পড়বে না শাওমি। অর্থাৎ মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজস্ব পণ্য উন্নয়নে হুয়াওয়ে ও ড্রোন নির্মাতা ডিজেআইয়ের মতো মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের কাছ থেকে পৃথক লাইসেন্স নিতে হবে না। ২০ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন জো বাইডেন। নতুন প্রশাসনে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা গুরুত্ব হারাতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে শাওমি বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শাওমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বিদ্যমান সকল আইন মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করে। শাওমি পুনর্ব্যক্ত করতে চায় যে তাদের পণ্য এবং পরিষেবা সর্ব সাধারণের বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্যই। শাওমি নিশ্চয়তার সাথে জানাতে চায় যে তারা চীনা সামরিক বাহিনীর মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রিত নয় কিংবা তাদের সাথে কোন ভাবে সংশ্লিষ্ট নয়; না তারা মার্কিন সরকারের এনডিএএ আওতাধীন ‘কমিউনিস্ট চীনের সামরিক প্রতিষ্ঠান’। এমতাবস্থায় শাওমি তার ও তার শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। শাওমি বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব ও পরিণতিগুলি পর্যালোচনা করছে।