Biz Tech 24 :: বিজ টেক ২৪

আইএমএফ’র পূর্বাভাস

আবারো মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ

বিজটেক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:৩১, ১৩ অক্টোবর ২০২১

আবারো মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ

মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ভারতকে আবারো ছাড়িয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২১ সালে চলতি মূল্যে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হবে ২ হাজার ১৩৮ দশমিক ৭৯৪ ডলার। আর ভারতের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াবে ২ হাজার ১১৬ দশমিক ৪৪৪ ডলার। ফলে এই নিয়ে পরপর দুই বছর ভারতকে পেছনে ফেলবে বাংলাদেশ।

আইএমএফ মঙ্গলবার রাতে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (ডব্লিউইও) প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত আউটলুকে সংস্থাটি বলছে, এ বছর করোনার প্রভাব কাটিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রবৃদ্ধির হার বাড়বে। এর মধ্যে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হবে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ আর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। ভারতের প্রবৃদ্ধি বাড়লেও আগের বছর ভারতের অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছিল ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। সে জন্য আবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছে বাংলাদেশের সামনে।

ঠিক এক বছর আগে আইএমএফ এবারের মতোই ডব্লিউইও প্রকাশ করে জানিয়েছিল, ২০২০ সালে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ, আর ভারতের প্রবৃদ্ধি কমে হবে ঋণাত্মক, অর্থাৎ (-) ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। এর ফলে ২০২০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হবে ১ হাজার ৮৮৮ ডলার ও ভারতের হবে ১ হাজার ৮৭৭ ডলার।

আইএমএফ অবশ্য এখন বলছে, ২০২০ সালে প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে ভারতের সংকোচন হয়েছে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে শেষ পর্যন্ত তাদের হিসাবে ২০২০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৬১ দশমিক ৬১৪ ডলার এবং ভারতের ১ হাজার ৯২৯ দশমিক ৬৭৭ ডলার। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি বেশি হয়েছিল ৩১ দশমিক ৯৩৭ ডলার।

মূলত এবার রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি অর্জন করার কথা বলা হলেও আগের বছরের উচ্চ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধির প্রভাবেই এখনো পিছিয়ে আছে ভারত। এমনকি আগামী বছরও ভারত পিছিয়ে থাকবে বলে আইএমএফ মনে করে। চলতি বছরের পূর্বাভাসে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি বেশি হবে ২২ দশমিক ৩৫ ডলার।

জিডিপিতে বাংলাদেশ পরপর দুই বছর ছাড়িয়ে গেলেও বেশ কিছু সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশটিকে ছাড়িয়ে গেছে আরও সাত বছর আগে। যেমন ভারতের মেয়েদের তুলনায় বাংলাদেশের মেয়েদের শিক্ষার হার বেশি ও নারীপ্রতি জন্মহার কম। আবার ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে নবজাতকের ও পাঁচ বছরের নিচে শিশুমৃত্যুর হারও কম।