ঢাকা     ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ||  ১৫ অগ্রাহায়ণ ১৪৩২

Biz Tech 24 :: বিজ টেক ২৪

আগামী সপ্তাহে চালু হবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: গভর্নর

বিজটেক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২১:৪৮, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

আগামী সপ্তাহে চালু হবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: গভর্নর

সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত হয়ে গঠিত হওয়া ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ আগামী সপ্তাহ থেকে চালু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। 

শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে 'চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫' অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। 
এসময় গভর্নর বলেন, ব্যাংক রেজ্যোলুশন অর্ডিন্যান্স পাঁচটি ব্যাংকে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এতে একীভূত করে একটি নতুন ব্যাংক গঠন হবে। আমরা আশাবাদী আগামী সপ্তাহেই লঞ্চিং হয়ে যাবে। এতে ৩৫ হাজার কোটি টাকার পেইড-আপ ক্যাপিটাল থাকবে। আমরা পাঁচ দুর্বল ব্যাংক নিয়ে একটি সবল ব্যাংক গঠন করতে যাচ্ছি। এতে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে,' বলেন তিনি।

এছাড়া ব্যাংকিং খাতে বর্তমানে খেলাপি ঋণের যে চিত্র, সেখান থেকে উত্তরণের জন্য ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লাগবে বলেও উল্লেখ করেন গভর্নর। 

তিনি বলেন, 'খেলাপি ঋণ ব্যাংকিং খাতে অনেক বড় একটা সমস্যা। বর্তমানে ৩৫ শতাংশ খেলাপি ঋণ। এটা কোনো ছোটখাটো সমস্যা নয়। এক-তৃতীয়াংশের বেশি খেলাপি ঋণ হয়েছে। এটা ধরে নিয়েই আমাকে ব্যাংক খাত চালাতে হবে। আর এ চিত্র থেকে উত্তরণের জন্য পাঁচ থেকে দশ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যাবে।

দুর্বল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে (এনবিএফআই) আইন মোতাবেক যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন গভর্নর। ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হবে এবং এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সব রকমের সাহায্য পাওয়া যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। 

গভর্নর আরও বলেন, 'আগামী দিনে নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার আসবে, তারা এটা অনুধাবন করবে। যেহেতু আর্থিক খাতে অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেটা মোকাবিলা করার জন্য যে প্রক্রিয়াগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সেটাকেও তারা বিশ্লেষণ করে সমর্থন করবে এবং এ প্রক্রিয়াকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, 'বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডলার রয়েছে। আমি আগেও বলেছিলাম মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে ডলার মার্কেটকে স্থিতিশীল করতে হবে। বর্তমানে ডলার মার্কেট স্থিতিশীল রয়েছে, প্রয়োজনের চেয়ে বেশি স্ট্যাবল রয়েছে। কারণ আমি গভর্নর হিসাবে যখন যোগদান করি তখন ডলারের দর ছিল ১২০ টাকা, আর এখন ১২২ টাকা ৫০ পয়সা। কোনো রকমের ইন্টারভেনশন হচ্ছেও না, আর পুরোপুরি মার্কেট-বেজড অপারেশন হচ্ছে। তাই আমরা যত ইচ্ছা আমদানি করতে পারব। কেউ যদি বলেন আমদানি করতে পারছেন না, তাহলে এটা ওনার সমস্যা। ব্যাংকে ডলারের কোনো অভাব নেই। আপনারা (ব্যবসায়ী) টাকা নিয়ে আসতে পারলে যেকোনো অ্যামাউন্টের এলসি খুলতে পারবেন। আর টাকা নিয়ে আসার দায়িত্ব আপনাদের। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সকল রকমের মার্জিন তুলে দিয়েছে।

গভর্নর আরও বলেন, 'আগের রমজানে পণ্য আনার ক্ষেত্রে এক রকম চ্যালেঞ্জ ছিল। পর্যাপ্ত ডলার দিয়েই সরবরাহ ঠিক করা হয়েছিল। তবে আসন্ন রমজানে কোনো ধরণের শঙ্কা দেখছি না। কারণ রমজানে যেসব ভোগ্যপণ্য লাগে, তার প্রত্যেকটির এলসি খোলা আগেই হয়ে গেছে। পরিসংখ্যান দিয়ে বললে হবে না যে আমদানি কম। কারণ আমদানির বিপরীতে পাচার বন্ধ হয়েছে।