বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ভিসা সেবা আবারও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে যাচ্ছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ট্যুরিস্ট ভিসাসহ সব ধরনের ভিসা দেওয়া শুরু করতে পারে ভারত। যা দুই দেশের মধ্যে মানুষের যাতায়াত ও সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ ভিসা সেবা চালুর লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রাথমিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা দেওয়া পুনরায় শুরু করে। একই পদক্ষেপ নিতে এখন প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতও।
গত মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় ভিসা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচনায় উঠে আসে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে দ্রুত ভিসা সেবা স্বাভাবিক করার আহ্বান জানানো হয়। ভারতও এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বর্তমানে ভারতে বাংলাদেশের নয়াদিল্লি হাইকমিশনসহ কলকাতা, আগরতলা, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ের কনস্যুলার সেবা স্বাভাবিক রয়েছে। একইভাবে বাংলাদেশেও ভারতের ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে এবং গত দুই মাসে প্রায় ১২ হাজার ভিসা ইস্যু করা হয়েছে, যার মধ্যে ব্যবসা, পর্যটন, চিকিৎসা ও পারিবারিক ভিসা অন্তর্ভুক্ত।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা দেখা দেয় এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত ভিসা সেবা সীমিত করে। সে সময় জরুরি ক্যাটাগরি—যেমন চিকিৎসা ও পারিবারিক ভিসা—চালু থাকলেও পর্যটনসহ অন্যান্য ভিসা কার্যত স্থগিত ছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে এগোচ্ছে। কূটনৈতিক পর্যায়ে একাধিক বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের সফরের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিগগিরই নতুন ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গ্রহণও এই প্রক্রিয়াকে আরও গতি দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভিসা সেবা সম্পূর্ণ চালু হলে দুই দেশের মধ্যে পর্যটন, বাণিজ্য ও চিকিৎসা খাতে উল্লেখযোগ্য গতি আসবে। বিশেষ করে ভারত দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশিদের অন্যতম জনপ্রিয় চিকিৎসা ও পর্যটন গন্তব্য হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে আনবে।
ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হলে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জ্বালানি খাত এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির মতো বড় বিষয়গুলোতেও দুই দেশ আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারবে। সব মিলিয়ে, ভিসা সেবা চালুর এই উদ্যোগ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন ইতিবাচক অধ্যায় সূচিত করতে যাচ্ছে।
