Biz Tech 24 :: বিজ টেক ২৪

ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে যাচ্ছে না বাংলাদেশ

বিজটেক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:০১, ২১ এপ্রিল ২০২১

ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে যাচ্ছে না বাংলাদেশ

দেশে আপাতত কোনো ধরনের ডিজিটাল মুদ্রা বা ভার্চুয়াল কারেন্সি (ক্রিপ্টোকারেন্সি) বাজারে না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বংলাদেশ ব্যাংক। কোনো প্রতিষ্ঠান এ ধরনের মুদ্রা বাজারে ছাড়ার অনুমোদনও পাবে না। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ ধরনের মুদ্রার প্রচলন করার চেষ্টা করলে অথবা লেনদেন করলে তাদের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান ডিজিটাল মুদ্রা বাংলাদেশে লেনদেনের বিষয়ে কথা উঠলে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বৈঠকে ডিজিটাল মুদ্রার বিকল্প হিসেবে দেশে চলমান ব্যাংক নোটগুলোর অনলাইনভিত্তিক (প্লাস্টিক মানি বা ইলেকট্রনিক মানি) লেনদেন আরও বাড়ানোর প্রতি তাগিদ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নগদ টাকার ব্যবহার যথাসম্ভব কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে, এতে মুদ্রা জাল করার প্রবণতা কমে যাবে এবং নোট ছাপানো, ব্যবস্থাপনা ও স্থানান্তরের খরচ কমে যাবে। একই সঙ্গে কমবে ব্যাংকগুলোর নোট ব্যবস্থাপনার চাপ।

ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই, নেই লেনদেনের কোনো গ্যারান্টি, নিয়ন্ত্রণের জন্য নেই কোনো কর্তৃপক্ষ, মুদ্রা খোয়া গেলে বা দরপতন ঘটলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এরপরও বিশ্বব্যাপী ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের চাহিদা এখন তুঙ্গে। হু-হু করে বাড়ছে দাম। ২০০৯ সালে মুদ্রাটির যাত্রার শুরুতে প্রতি বিটকয়েনের দাম ছিল এক ডলার বা ৭৯ টাকার নিচে। ১২ এপ্রিল এর দাম সর্বোচ্চ বেড়ে প্রায় ৯৪ লাখ টাকায় উঠেছিল। ২০ এপ্রিল আবার কমে ৪৬ লাখ ৭৯ হাজার টাকায় নেমে এসেছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশে বিটকয়েন কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তারপরও থেমে নেই এর লেনদেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এর ব্যবসা বেআইনিভাবে বাংলাদেশেও প্রসারিত হচ্ছে। আবার প্রতারণার ঘটনাও ঘটছে। বিদেশে কেনা পণ্যের দাম যেমন বিটকয়েনের পরিশোধ করা হচ্ছে, তেমনি এতে বিনিয়োগ হচ্ছে। বেআইনি এ মুদ্রা নিয়ে ব্যবসা করার দায়ে ইতোমধ্যে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে কয়েকটি মামলা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী কোনো দেশ ডিজিটাল মুদ্রা এখনও চালু করেনি। উন্নত দেশগুলোর কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ মুদ্রার স্বীকৃতি দেয়নি। সে অবস্থায় বাংলাদেশে এ ধরনের মুদ্রা চালু বা লেনদেনের অনুমতি দেয়া হবে না। প্রতিযোগী দেশগুলো এ ধরনের মুদ্রা চালু করলে তার ফলাফল দেখে পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেবে।

সূত্র জানায়, দেশে এখন মোট লেনদেনের প্রায় ৪০ শতাংশ ইলেকট্রনিক মানি পদ্ধতিতে হয়। একে আরও শক্তিশালী করতে গ্রাহক পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের কার্ড, পস মেশিন, অনলাইনে দেনা-পাওনা পরিশোধ পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করতে হবে। সে লক্ষ্যে কার্যক্রম হাতে নেওয়ার জন্য ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে আর্থিক খাতের ডিজিটাল প্ল্যাটফরমকে নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় বৈঠকে।