ঢাকা     ১৪ জুন ২০২৬ ||  ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Biz Tech 24 :: বিজ টেক ২৪

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা

বিজটেক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৬:৫১, ২৩ মে ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা

দেশের অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে এবং দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় সচল করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বড় প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেসরকারি খাতকে চাঙা করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

শনিবার (২৩ মে) ঢাকার মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে গভর্নর ড. মোস্তাফিজুর রহমান এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ঘোষিত প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা সরাসরি বন্ধ কারখানাগুলো পুনঃঅর্থায়ন ও পুনরায় চালুর কাজে ব্যবহার করা হবে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে ১৯ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করবে।

গভর্নর বলেন, অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে নিতে উৎপাদনমুখী শিল্পকে আবার সচল করা এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। এই তহবিলের মাধ্যমে বন্ধ ও আংশিক চালু কারখানাগুলোকে দ্রুত উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, তহবিলটি থেকে বড় শিল্প, কুটির শিল্প, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) এবং কৃষিখাতে ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে। বড় শিল্পের জন্য ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শতাংশ। তবে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে সুদের হার কিছুটা বেশি হতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, কোভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের অস্থিরতার কারণে গত কয়েক বছরে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমিয়ে দেয় বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এসব কারখানাকে পুনরায় সচল করতেই এই বিশেষ প্যাকেজ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের বাজারচাহিদা রয়েছে এবং যাদের পণ্যের নিশ্চিত ক্রয়াদেশ আছে, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থায়ন দেওয়া হবে। এতে তহবিলের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠন ও ব্যাংকের কাছ থেকে বন্ধ ও আংশিক চালু শিল্পকারখানার তথ্য সংগ্রহ করেছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০টির বেশি শিল্প ইউনিট চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও রয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, এই প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়িত হলে অন্তত ২৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে এবং নতুন বিনিয়োগ বাড়বে। দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি সবুজ বিনিয়োগ ও পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নও উৎসাহিত হবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।