বহুল আলোচিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ আবারও পিছিয়েছে। এ নিয়ে টানা ৯৯ বারের মতো পিছাল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন। সোমবার (নির্ধারিত দিনে) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত আগামী ২ জুলাই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার নতুন দিন ধার্য করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রুকনুজ্জামান।
দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আর্থিক সাইবার জালিয়াতির ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম এই রিজার্ভ চুরি ঘটে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে সংরক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে হ্যাকাররা ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার সরিয়ে নেয়। আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থাগুলোর ধারণা, অত্যন্ত পরিকল্পিত সাইবার হামলার মাধ্যমে এই অর্থ চুরি করা হয় এবং পরে তা বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই চুরির সঙ্গে আন্তর্জাতিক হ্যাকার চক্রের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে থাকা একটি সহযোগী চক্রও জড়িত থাকতে পারে। ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয় এবং বাংলাদেশের ব্যাংকিং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের তৎকালীন উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা মতিঝিল থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি করা হয় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে। পরদিন ১৬ মার্চ আদালত মামলাটির তদন্তভার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) প্রদান করেন। এরপর প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। বারবার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বাড়ানো হলেও এখন পর্যন্ত আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি সিআইডি। এ নিয়ে হতাশা তৈরি হয়েছে আইনজীবী ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে। তাদের মতে, দীর্ঘসূত্রতা শুধু বিচার প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, দেশের আর্থিক খাতের জবাবদিহিতাকেও দুর্বল করছে।
