সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (টুইটার)-কে ‘এভরিথিং অ্যাপ’-এ রূপান্তরের পরিকল্পনায় বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে নতুন ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স মানি’। যা প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে এক্সের প্রিমিয়াম ও প্রিমিয়াম প্লাস গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
নতুন এই সেবার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ডিজিটাল ওয়ালেট, গ্রাহক-থেকে-গ্রাহক (পিয়ার-টু-পিয়ার) অর্থ লেনদেন, ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট এবং ভার্চুয়াল ও ফিজিক্যাল কার্ড ব্যবহারের সুবিধা পাবেন।
এক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্যবহারকারীরা কোনো অতিরিক্ত ফি বা লেনদেন সীমা ছাড়াই একে অপরের কাছে অর্থ পাঠাতে, গ্রহণ করতে কিংবা অর্থের অনুরোধ জানাতে পারবেন। ডিপোজিট অ্যাকাউন্টগুলো যুক্তরাষ্ট্রের এফডিআইসি-সদস্য ক্রস রিভার ব্যাংকে সংরক্ষিত থাকবে এবং ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত আমানত বিমার আওতায় থাকবে। পাশাপাশি অ্যাপল ওয়ালেট ও অ্যাপল পে সমর্থনের ফলে ব্যবহারকারীরা সহজেই ভার্চুয়াল কার্ড যুক্ত করে ডিজিটাল পেমেন্ট করতে পারবেন।
এক্স মানির গ্রাহকদের জন্য থাকছে নির্দিষ্ট কেনাকাটায় ৩ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক। আর শর্ত পূরণ করে ডিরেক্ট ডিপোজিট চালু করলে প্রিমিয়াম গ্রাহকরা বার্ষিক সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়া ব্যক্তিগত নাম খোদাই করা বিশেষ মেটাল কার্ড, নতুন গ্রাহকদের জন্য ১৫ ডলারের ওয়েলকাম বোনাস এবং ২৪ ঘণ্টার কাস্টমার সাপোর্ট সুবিধাও রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদারে প্ল্যাটফর্মটিতে পাসকি অথেনটিকেশন এবং ভিসার উন্নত নিরাপত্তা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে সেবাটি কেবল ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিন ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
ডিজিটাল পেমেন্ট, ব্যাংকিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে একই প্ল্যাটফর্মে একীভূত করার মাধ্যমে চীনের উইচ্যাট ও আলিপে-র আদলে একটি পূর্ণাঙ্গ আর্থিক ও যোগাযোগভিত্তিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চাইছেন ইলন মাস্ক। তবে এই উদ্যোগের নিরাপত্তা, ভোক্তা সুরক্ষা এবং আর্থিক ঝুঁকি নিয়ে ইতোমধ্যেই মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
