ঢাকা     ২৬ আগস্ট ২০২৬ ||  ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

Biz Tech 24 :: বিজ টেক ২৪

নতুন আমদানি নীতিতে থাকছে যেসব সুযোগ-সুবিধা

প্রকাশিত: ১৮:০০, ২৫ আগস্ট ২০২৬

নতুন আমদানি নীতিতে থাকছে যেসব সুযোগ-সুবিধা

আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করা, ব্যাংকিং জটিলতা কমানো এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে আরও উদার নীতি গ্রহণের লক্ষ্য নিয়ে নতুন আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২৯ জারি করেছে সরকার। নতুন নীতিতে এলসি ছাড়া আমদানির সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি সহজ করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নতুন এ আদেশ জারি করে। এর ফলে আগের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২৪ বাতিল হয়েছে। নতুন নীতিতে বাংলাদেশকে এলডিসি-পরবর্তী বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন নীতির অন্যতম বড় পরিবর্তন হলো সেলস বা পারচেজ কনট্রাক্টের মাধ্যমে এলসি ছাড়াই বাণিজ্যিক পণ্য আমদানির সুযোগ সম্প্রসারণ। আগের নীতিতে এ ধরনের আমদানির ক্ষেত্রে বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ডলারের সীমা ছিল। নতুন আদেশে সেই মূল্যসীমা তুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ীদের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করা সহজ হবে এবং আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাংকনির্ভরতা ও আনুষঙ্গিক জটিলতা কিছুটা কমতে পারে।

নতুন আমদানি নীতিতে প্রথমবারের মতো ফ্রি ট্রেড জোন এবং সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউস প্রতিষ্ঠার বিধিমালা যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক লজিস্টিকস এবং পণ্য পুনঃরপ্তানির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এছাড়া অনুমোদিত শিল্পের জন্য মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করার কথা বলা হয়েছে। রপ্তানিমুখী শিল্পে উৎপাদন উপকরণ ও কাঁচামাল ‘ফ্রি অব কস্ট’ ভিত্তিতে আমদানির সুবিধাও বাড়ানো হয়েছে।

নতুন নীতিতে প্রথমবারের মতো ‘প্রবাসী বাংলাদেশি’র সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে। আধুনিক আন্তর্জাতিক অর্থ পরিশোধ পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রবাসীদের দেশে শিল্প ও বিনিয়োগে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আমদানি নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল হওয়ায় ব্যবসা সহজ হওয়ার পাশাপাশি আমদানির পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। এতে ভোক্তারা বেশি পণ্য ও প্রতিযোগিতামূলক দামের সুবিধা পেলেও দেশীয় শিল্পের ওপর প্রতিযোগিতার চাপ বাড়বে।

বিশেষ করে বাংলাদেশি পণ্যের বিদেশি বাজারে প্রবেশের সুযোগ একই হারে না বাড়লে আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি আয়ের ব্যবধান আরও বাড়তে পারে। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। 

অন্যদিকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বাণিজ্য সহজীকরণ কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতি গ্রহণের ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন বাণিজ্য অংশীদারের সঙ্গে এফটিএ বা পিটিএ আলোচনায় বাংলাদেশ সুবিধা পেতে পারে। ফলে নতুন আমদানি নীতি একদিকে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করার সুযোগ তৈরি করলেও অন্যদিকে দেশীয় শিল্পকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য দ্রুত প্রস্তুত হওয়ার চাপও বাড়াবে।